
ফিচার ডেস্ক: দেশের প্রান্তিক এলাকার ভূমিহীন মানুষের যাপিত জীবন, চারপাশের প্রকৃতি এবং সংগ্রামের গল্প নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। রাজধানী ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে প্রান্তিকের কল্পজগৎ। অধিকারভিত্তিক সংগঠন নিজেরা করির পথচলার পঁয়তাল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনটির বিভিন্ন শাখার সদস্য এবং তাদের পরিবারের শিশু ও কিশোরেরা এসব শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
সম্প্রতি আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী অধ্যাপক আবুল বার্ক আলভী এবং খুলনার ভূমিহীন নেত্রী রাহেলা বেগম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, সংগঠনটি শুরু থেকেই প্রান্তিক মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে। তারা কোনো ধরনের আর্থিক সাহায্য বা ঋণ বিতরণের পরিবর্তে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং সম্মিলিতভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে থাকেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনটির হাজার হাজার ভূমিহীন দল সক্রিয় রয়েছে যেখানে লাখ লাখ সদস্য নানা সামাজিক ও নাগরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
এই প্রদর্শনীতে প্রান্তিক মানুষের সহজাত সৃজনশীলতার চমৎকার প্রকাশ ঘটেছে যেখানে মূলত তিন ধরনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। শিশুরা খবরের কাগজের ওপর নানা বিষয়ের ছবি এঁকেছে এবং বড় আকারের কাপড়ের ওপর অ্যাপ্লিকের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা দৃশ্য। নকশিকাঁথার আদলে তৈরি এই বিশাল কাজগুলোতে উঠে এসেছে সবজি বিক্রেতা, ফুল, পাখি, শহীদ মিনার ও গ্রামীণ জনপদের নানা চিত্র। এ ছাড়া কাপড় ও তুলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পুতুল এবং জামদানি শাড়ির ওপর অ্যাপ্লিকের মাধ্যমে নারীদের অধিকার ও সমতার দাবিগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট এবং জলপুতুল পাপেটসের শিল্পীরা এই শিল্পকর্ম তৈরিতে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করেছেন।
প্রদর্শনীটির কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেছেন বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের ট্রাস্টি শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান। তিনি জানান, দেশের কয়েকটি অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে এই শিল্পকর্মগুলো তৈরি করা হয়েছে যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণ নিজেদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও জীবনঅভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার বাইরে থাকা এসব মানুষের নিখাদ শিল্পকর্ম দর্শকদের মাঝে আলাদা এক অনুভূতির জন্ম দিচ্ছে। এই প্রদর্শনীটি নির্ধারিত দিন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে এবং সমাপনী দিনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিবেশনায় নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।