
নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে টানা কর্মবিরতি পালন করছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মচারীরা। সম্প্রতি এই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই বন্দরজুড়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের লাগাতার এই কর্মসূচির ফলে বন্দরের স্বাভাবিক গতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বন্দরের ভেতরে তীব্র জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় ভারত থেকে নতুন করে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারছে না। পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় সাড়ে চারশ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে।
আটকে থাকা এই বিপুল পরিমাণ ট্রাকের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় চারশ ট্রাকই পাথর বহনকারী বলে জানা গেছে। বাকি ট্রাকগুলোতে রয়েছে নারিকেল, বিভিন্ন ধরনের ভুসি, শুঁটকি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বা শিল্পপণ্য। বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি সকালে সামান্য কিছু ট্রাক প্রবেশ করলেও বন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ভারত থেকে নতুন করে আর কোনো যানবাহন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দিনের পর দিন পণ্যবাহী ট্রাকগুলো আটকে থাকায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সঠিক সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের মূল অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তারা কোনো কারণ ছাড়াই তাদের প্রবেশপত্র বা কার্ড আটকে রাখছেন এবং নানা অজুহাতে ফাইল আটকে হয়রানি করছেন। বিশেষ করে কাস্টমস সুপার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অশোভন আচরণ এবং পণ্য খালাসে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন তারা। এসব অনিয়ম ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, কাউকে কোনো নিয়মবহির্ভূত হয়রানি করা হচ্ছে না এবং আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না।
এই অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে বন্দরের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের রাজস্ব আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকটের অবসান হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।