
নিউজ ডেস্ক: শীতের সকালে রান্নাঘরের টেবিলে যদি পরম শূন্য তাপমাত্রার কাছাকাছি অর্থাৎ প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি তামার টুকরো রাখা হয়, তবে মুহূর্তেই পুরো ঘর বরফে জমে যাওয়ার মতো সিনেমাটিক কোনো ঘটনা ঘটবে না। বরং এর সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে তামার টুকরোটি আশপাশের পরিবেশ থেকে তাপ শোষণ করতে শুরু করবে। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী পরম শূন্য হলো তাপমাত্রার সর্বনিম্ন সীমা, যেখানে পদার্থের তাপীয় গতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে যায় কিন্তু কণাগুলো পুরোপুরি স্থির হয়ে যায় না।
প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী তাপ সর্বদা বেশি তাপমাত্রার বস্তু থেকে কম তাপমাত্রার বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যখন ওই অতি ঠান্ডা তামার টুকরোটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিবেশে আনা হয়, তখন বাতাস, টেবিল, দেয়াল ও মেঝে থেকে তাপ দ্রুত ওই বস্তুর ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। এই তাপ শোষণের ফলে তামার টুকরোটির তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং একসময় তা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে তাপীয় সাম্যাবস্থায় পৌঁছায়।
তবে এই প্রক্রিয়ার শুরুতে তামার চরম ঠান্ডার কারণে তার পৃষ্ঠে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটতে পারে। সংস্পর্শে আসা বাতাসের জলীয় বাষ্প অতি দ্রুত তাপ হারিয়ে ঘনীভূত হয়ে বরফে পরিণত হতে পারে এবং টুকরোটির গায়ে সাদা আস্তরণ বা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। এমনকি তাপমাত্রা যথেষ্ট কম থাকলে বাতাসের অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদানও ঘনীভূত বা জমাট বাঁধার সম্ভাবনা থাকে, যা দেখে অনেক সময় ভুলবশত সেটিকে হিমশীতল কোনো রশ্মির প্রভাব বলে মনে হতে পারে।
একটি সাধারণ ১ কিলোগ্রাম ওজনের তামার টুকরোর তাপধারণ ক্ষমতা এত কম থাকে যে তা একটি সম্পূর্ণ ঘরকে ঠান্ডা করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করতে পারে না। ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র এবং বিশাল পরিমাণ বাতাসের সম্মিলিত তাপের উৎসের সামনে ওই ছোট্ট টুকরোটির শীতলতা টিকতে পারে না। ফলে সামান্য কিছু স্থানীয় ঠান্ডা বাতাস বা বরফ জমা ছাড়া পুরো ঘর বরফাবৃত হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।