বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার বাজার

ঈদের ছুটি শেষে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

নিউজ ডেস্ক :: ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতনের পরও ব্যাংকের কল্যাণে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এদিন প্রধান বিস্তারিত...

তৈরি পোশাক নয়, ব্যাগ উৎপাদনের মেশিনারি কিনবে এসকে ট্রিমস

নিউজ ডেস্ক :: প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনায় কিছুটা

মডার্ন সিকিউরিটিজকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান মডার্ন সিকিউরিটিজ লিমিটেড

৩০ মে পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম বন্ধ

 নিউজ ডেস্ক : আগামী ৩০ মে পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)

অগ্রিম আয়করের কারণে লোকসান প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ দেবে না হাইডেলবার্গ

সিমেন্টের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় ২০১৯ হিসাব বছরে লোকসান গুনতে হয়েছে সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডকে। যদিও আগের বছরের তুলনায় ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে হাইডেলবার্গ ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার সিমেন্ট বিক্রি করেছে, যেখানে এর আগের বছর বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকার। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির গ্রস মুনাফা হয়েছে ১২২ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ১৯৩ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটির ১৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, যেখানে এর আগের বছরে মুনাফা ছিল ৮০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ১৪ টাকা ৩৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ৮৮ পয়সা, যা এর আগের বছরে ছিল ৮২ টাকা ৬৮ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফএস) হয়েছে ৪ টাকা ৬৫ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ১১ টাকা ৩১ পয়সা। আগামী ২৪ জুন বেলা ১১টায় কোম্পানিটির নারায়ণগঞ্জের কারখানায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুুষ্ঠিত হবে। বিনিয়োগকারী বাছাইয়ের জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ মে। ২০১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালে ১৫০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৩০০ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৩০০ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৩৮০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। জানতে চাইলে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) জসিমউদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, মূলত অগ্রীম আয়করের কারণেই আমাদের ২০১৯ সালে লোকসান হয়েছে। যদিও গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর অগ্রীম আয়করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এটিও আমাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে যায়। কারণ আগে অগ্রীম আয়কর পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানির ওপর ৫ শতাংশ হারে অগ্রীম আয়কর থাকলেও সেটি ন্যূনতম করদায় হিসেবে বিবেচিত হতো না। এর ফলে করযোগ্য আয়ের ওপর প্রদেয় করের সঙ্গে আমদানি স্তরে প্রদত্ত অগ্রীম আয়কর সমন্বয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে অর্থবিলে সংশোধনীর মাধ্যমে সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আদায়কৃত ৫ শতাংশ অগ্রীম আয়কর ন্যূনতম করদায় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে এ প্রদত্ত কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও পরবর্তী সময়ে সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসআরও জারির মাধ্যমে সিমেন্ট খাতের অগ্রীম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে। তবে এতে করভার কিছুটা কমলেও চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনার কারণে এখনো বাড়তি কর দিতে হচ্ছে সিমেন্ট উৎপাদকদের।

বিএটি বাংলাদেশের ৪৭তম এজিএম শেয়ারপ্রতি ৪০০% লভ্যাংশ ঘোষণা

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটি বাংলাদেশ) ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয়। মহামারী করোনাভাইরাসে জনসমাগম এড়াতে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএটি বাংলাদেশ এ সাধারণ সভার জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানির চেয়ারম্যান গোলাম মইন উদ্দীনের সভাপতিত্বে উক্ত বার্ষিক সাধারণ সভায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বিদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে যোগ দেন। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো আর্থিক বিবরণী ২০১৯, পরিচালকদের নির্বাচন, বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক নিয়োগ, করপোরেট গভর্ন্যান্স নিরীক্ষক নিয়োগ এবং শেয়ারপ্রতি ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন। এছাড়া শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালক পর্ষদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত মতবিনিময় এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন। করোনার এই অচল অবস্থার মধ্যেও সময়মতো ডিভিডেন্ড দেয়াকে উল্লেখযোগ্য অবদান বলে মনে করছেন শেয়ারহোল্ডাররা।

পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা প্রসঙ্গ ডিএসই শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের মতবিরোধ

দেশে চলমান সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ এপ্রিল। ওই সময়ের পর ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলে আবারো পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা হবে কিনা সে বিষয়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ফলে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো সমন্বিত সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না এক্সচেঞ্জটি। প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ২৫ মার্চের পর থেকেই। বিশ্বের অন্যত্র চালু থাকলেও সমন্বিত অটোমেটেড সিস্টেম না থাকায় বাংলাদেশে এখন লেনদেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর তিন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান সরকারি সাধারণ ছুটি যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার পক্ষে। অন্যদিকে ডিএসইর আরেক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান পুঁজিবাজারে সীমিত পরিসরে হলেও লেনদেন চালু রাখার পক্ষে। এ বাস্তবতায় এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজার চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি ডিএসইর পর্ষদ। পুঁজিবাজার চালুর বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আইনিভাবে স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে অনেক ভবন লকডাউন করা হয়েছে, যেখানে ব্রোকারেজ হাউজের অফিসও রয়েছে। তাছাড়া ছুটির মধ্যে সীমিত আকারে ব্যাংকের লেনদেন চালু থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিদিন ৩০০-৪০০ কোটি টাকার লেনদেন করা সম্ভব নয়। ডিএসইর লেনদেন অটোমেটেড হলেও এখনো আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছতে পারেনি। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে মোট বিনিয়োগকারীর মাত্র দশমিক ৫২ শতাংশ লেনদেন করছে। তাছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো ব্যাংকে চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় বর্তমানে ঘরে বসে লেনদেন চালু রাখা সম্ভব নয়। জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বড় নয়, বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে অনেক ব্যবসা করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা প্রয়োজন হলেও আমাদের সে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ লেনদেন চালু রাখতে হলে ম্যাচিং ইঞ্জিন চালু রাখতে হবে। এজন্য ২০-২৫ জন কর্মীকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। তাছাড়া ব্রোকারেজ হাউজগুলো চালাতে আরো কর্মীর প্রয়োজন হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউজের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন চালু না রাখাই উত্তম হবে। ডিএসইর আরেক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জীবনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। সাধারণ ছুটির সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম বন্ধ রাখা সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ রাখার বিষয়ে মত দিয়েছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেনও। তিনি বলেন, সাধারণ ছুটির কারণে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনেক কর্মীই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। তাছাড়া এরই মধ্যে অনেক এলাকা লকডাউন হয়ে গেছে এবং প্রতিদিনই লকডাউন হওয়া এলাকার সংখ্যা বাড়ছে। ফলে চাইলেও অনেকের পক্ষে লকডাউন উপেক্ষা করে ব্রোকারেজ হাউজে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ডিএসই অটোমেটেড হলেও এখনো সেভাবে বিনিয়োগকারীরা অভ্যস্ত নন। ফলে মহামারীর এ সময়ে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউজে আনা কি ঠিক হবে? এদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে হলেও সীমিত পরিসরে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর পক্ষে ডিএসইর আরেক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান। চাইলেই সীমিত পরিসরে সীমিত জনবল দিয়ে ব্রোকারেজ হাউজ চালু রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। তার মতে, বিশ্বায়নের এ যুগে যেখানে সব প্রায় সব দেশেই পুঁজিবাজার চালু রয়েছে, সেখানে আমরা বন্ধ রাখতে পারি না। তাছাড়া এ পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারীর জরুরি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় তারা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। এদিকে সিডিবিএল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির এমডি শুভ্র কান্তি চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেভাবেই কাজ করব। তারা লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমাদের অফিসও বন্ধ রয়েছে। তারা লেনদেন চালু করলে আমরাও অফিস চালু করতে পারব। আমাদের সে সক্ষমতা রয়েছে। একই কথা বলছেন বিএসইসির কর্মকর্তারাও। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান জানান, স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজার চালুর সিদ্ধান্ত নিলে তখন আমরা সার্ভিল্যান্স বিভাগ চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব কমিশনের কাছে আসেনি। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাতে বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সেজন্য সীমিত পরিসরে হলেও পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএসইসির সাবেক দুই চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরশেনস সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সাধারণ ছুটি প্রলম্বিত হলেও পুঁজিবাজার চালুর পক্ষে।

পুঁজিবাজার চালুর আহ্বান জানিয়েছেন রকিবুর রহমান

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অনেক দেশে লকডাউন থাকলে্ও কোনো দেশেই পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ করা হয়নি। বিশ্বায়ন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারীর জরুরি অর্থের প্রয়োজন। অথচ পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকায় তারা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ তুলতে পারছেন না। তাই দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা প্রয়োজন বলে গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. রকিবুর রহমান। বিবৃতিতে রকিবুর রহমান জানান, যদি সরকারের সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ে তাহলেও ২৬ এপ্রিল থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করা উচিত। বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বের অন্য পুঁজিবাজারগুলো থেকে আমাদের বাজার আলাদা থাকতে পারে না। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে। মানবিক কারণেও পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা জরুরি। অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রয়েছেন যাদের জীবনের সব সঞ্চয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা আছে। বর্তমানে সাধারণ ছুটিতে সবকিছু বন্ধ থাকায় তাদের অনেকেরই আয়-রোজগার নেই। তাদের হয়তো জরুরি অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় তারা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ তুলতে পারছেন না। রকিবুর রহমান আরো বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দিয়েছে, তাই বাজারে দর পতনেরও কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রতিটি ব্যাংককে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা করে তহবিল গঠনে যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি এই সংকটকালীন সময়ে পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেয়ার জন্য কাজে লাগাতে হবে।

শেয়ারবাজারও বন্ধ হচ্ছে

করোনার পাদুর্ভাব এড়াতে আগামী সপ্তাহ শেয়ারবাজার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। পুনরায় লেনদেন শুরু

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি