শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে কারিগরি শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা মিছিলসহ চন্দ্রদিঘলিয়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বসে পড়েন।
[caption id="attachment_60055" align="alignright" width="300"]
বাসস্ট্যান্ড ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক, ছবি : বাঙলার জাগরণ[/caption]
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বারবার দাবি জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি-
(১) কারিগরি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির স্বীকৃতি জাতীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা।
(২) সকল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষক সংকট নিরসন।
(৩) আধুনিক ল্যাব ও সরঞ্জাম সরবরাহ।
(৪) ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা।
(৫) চাকরির ক্ষেত্রে কারিগরি ডিগ্রিধারীদের কোটা নিশ্চিত করা।
(৬) শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি।
(৭) সেশনজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
বিক্ষোভস্থল থেকে শিক্ষার্থী নেতারা ঘোষণা দেন, “আমাদের দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হব।”
অবরোধের কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় এক মাইল জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীবাহী ও মালবাহী শত শত গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। কারিগরি শিক্ষার্থীদের দাবি হয়তো যৌক্তিক, তবে এমনভাবে মহাসড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।”
এ সময় আটকে পড়া এক যাত্রী বলেন, “আমি খুলনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলাম, কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এমন আন্দোলন হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়।”
অবরোধের খবরে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানায়।