শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
ফ্যাসিবাদের দোসরদের গোপনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজধানীতে পুলিশ সপ্তাহের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের কিছু সদস্যের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অপরাধীচক্রকে তথ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত এসব সদস্যকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলাও দায়ের করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ সমাজ ও জনগণের ব্যাপক সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অতীতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের নিজেদের ভুল সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিণতির দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।
সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৎ উদ্দেশ্যে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে কোনো পুলিশ সদস্যের অনভিপ্রেত ছোটখাটো ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে। তবে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশকে কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে দেখতে চায় না, বরং তারা সেবাধর্মী ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পুলিশকে দেখতে চায়।
অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিগত সময়ের বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত দেড় দশকে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। অপরাধীরা স্বেচ্ছায় আইনের মুখোমুখি না হলে আইন নিজস্ব গতিতে তাদের বিচার সম্পন্ন করবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, আগামী সপ্তাহে পুলিশের জন্য একটি স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে এই ইউনিট পরিচালিত হবে এবং এর কার্যক্রম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও বিস্তৃত করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাব সংযুক্ত করার মাধ্যমে এই ইউনিট অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।