শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বা এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করা হলেও বাজারে এর সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের চরম প্রয়োজনীয়তাকে পুঁজি করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে চলেছেন। বাজার তদারকির অভাবে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে ২৬০০ টাকায় পৌঁছেছে। গ্যাসের পরিমাণ অনুযায়ী অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও সেই অনুপাতে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫৮৫ টাকা। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে এবং চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
এই কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য এলপি গ্যাস আমদানিকারক এবং সিলিন্ডারজাতকারী কোম্পানিগুলো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করছে। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, আগামী মাসে দাম আরও বাড়ার আশায় কোম্পানিগুলো বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, যার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি দোষারোপের ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকেরাই বাড়তি খরচের ফাঁদে পড়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশে এলপি গ্যাস নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। বিইআরসি প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো চড়া দাম আদায় করে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং সব জেলা প্রশাসককে এলপিজির সংকট ও অতিরিক্ত দামের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমদানিকারক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক গৃহিণী ও ছোট ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি বা বৈদ্যুতিক চুলার শরণাপন্ন হচ্ছেন। সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে পরিচিত অটোগ্যাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে এবং অনেক ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে।
দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি এলপি গ্যাস গ্রাহক রয়েছে এবং প্রতি মাসে এর চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। এর বড় একটি অংশ রান্নার কাজে ব্যবহৃত হলেও সঠিক সময়ে বাজারে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন বা লোয়াবের পক্ষ থেকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অবৈধ মজুত বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল বিভিন্ন কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় সাধারণ consumers-দের দুর্ভোগ কাটছে না এবং নতুন মাসের নির্ধারিত মূল্যের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।