শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
মানবদেহের ওপর শূন্য মাধ্যাকর্ষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর প্রতিকার নিয়ে গবেষণা চালাতে চার নভোচারীকে মহাকাশে পাঠিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সম্প্রতি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি শক্তিশালী ফ্যালকন ৯ রকেটের সাহায্যে তাঁরা নিরাপদে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছান। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এই অভিযান শুরু হলেও তা সফলভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রবেশ করতে পেরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মহাকাশের এই বিশেষ পরিবেশে মানবদেহের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং রক্ত জমাট বাঁধার জটিল প্রক্রিয়াগুলোর ওপর মাধ্যাকর্ষণহীনতার কেমন প্রভাব পড়ে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন এই গবেষক দল। এছাড়া আগামী দিনে দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ও শারীরিক উপাত্ত সংগ্রহ করাই এই মিশনের অন্যতম মূল লক্ষ্য। এর আগে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই নভোচারী দলটি মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে সক্ষম হয়।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বর্তমানে অবস্থানরত চার সদস্যের পূর্ববর্তী দলের স্থলাভিষিক্ত হবেন এই নতুন নভোচারীরা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈজ্ঞানিক মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার বিশিষ্ট নভোচারী ও ভূতত্ত্ববিদ জেসিকা ওয়াটকিন্স। তাঁর সাথে এই দলে আরও যুক্ত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুট্রিক এবং রাশিয়ার অভিজ্ঞ মহাকাশচারী সের্গেই তেতেরিয়াতনিকোভ।
মহাকাশ স্টেশনে টানা ছয় মাস অবস্থান করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা পরিচালনা করবেন এই চার নভোচারী। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক লুনার মিশন অ্যাপোলো ১৩-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বিশেষ অভিযানের নামকরণ এবং এর লোগো বা প্যাচ ডিজাইন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবজাতির সেবায় নিয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।