বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন
প্রযুক্তি ডেস্ক: স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ব্যবহারকারীরা অনেকেই এর গোপনীয়তা নিয়ে নানা ভুল ধারণায় থাকেন। দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে কিংবা কৌতূহলবশত এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের পর তা মুছে ফেললেও অনেকেই মনে করেন সব তথ্য চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সম্প্রতি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল গবেষক জানিয়েছেন যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাট মুছে ফেলার পরও তার সব চিহ্ন সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয় না। এই গবেষণার মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গবেষকেরা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য ওরিজা নামের একটি বিশেষ ডিজিটাল টুল তৈরি করেছেন যা মুছে ফেলা চ্যাটের তথ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। ক্লাউডভিত্তিক এআই সার্ভারের বিপরীতে ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ফোনের প্রসেসর বা র্যামে চলা লোকাল এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি থাকে। লোকাল এআই চ্যাট মুছে দেওয়ার পরও ফোনের মেমোরির কোনো না কোনো অংশে তার ছোট ছোট টুকরো রয়ে যায়। এই বিশেষ টুলটি সেই মেমোরি তন্নতন্ন করে খুঁজে মুছে ফেলা কথোপকথনের টুকরোগুলো পুনরায় একত্র করে আগের সেশন সচল করতে পারে।
গবেষণা দল বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ও এআই মডেলের ওপর সফল পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে ওরিজা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া তথ্য ফিরিয়ে আনতে পারে। এমনকি অনেক সময় মূল চ্যাটে সক্রিয় মেমোরির ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি তথ্য এই মেমোরি থেকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান কেন শু উল্লেখ করেছেন যে ব্যবহারকারী এআইয়ের সঙ্গে কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করেছেন তা উদ্ঘাটনে এই প্রযুক্তি ডিজিটাল তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই প্রযুক্তির উপস্থিতি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরাও অনেক সময় এআই ব্যবহার করে পরিকল্পনা সাজানোর পর তা মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও তদন্তকারীরা এখন সহজেই তা উদ্ধার করতে পারবেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো ফোন নিয়মিত ব্যবহারের ফলে নতুন ডেটা দিয়ে মেমোরির পুরোনো অংশ ওভাররাইট হয়ে যায়। ফলে চ্যাট মুছে ফেলার পর যত বেশি সময় অতিক্রান্ত হয় এবং ফোনে অন্যান্য কার্যক্রম চলতে থাকে, সেই হারানো তথ্য উদ্ধার করা ততই কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আইইইই সিম্পোজিয়াম অন সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।