বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ইউনিয়ন পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করবে সরকার জেলে-কন্যা লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা, কাঁদলেন মা-মেয়ে ইস্ট ওয়েস্টে সেমিনার: সিনিয়রদের মিডিয়া লিটারেসিতে সহায়তার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার ১৫৪ কেন্দ্রের ফলে ১ লাখ ৭ হাজার ভোটে এগিয়ে ধানের শীষ রূপপুরে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে নভেম্বরে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর অনুশোচনা—‘দার–এ–নিজাত’ নিয়ে এত আলোচনা কেন ‘এক সপ্তাহ ধরে বেঁচাবিক্রি নেই, কিস্তির টাকা কেমনে দেব’ জামায়াত থেকে আলাদা পরিচয় ধরে রাখতে চায় এনসিপি, লংমার্চে উপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিন্তা দলটির স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে কমনওয়েলথে বাংলাদেশের পদক ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৪৮ কেন্দ্রের ফলে কে এগিয়ে

‘এক সপ্তাহ ধরে বেঁচাবিক্রি নেই, কিস্তির টাকা কেমনে দেব’

অর্থনীতি ডেস্ক: রাঙামাটির সাজেকে টানা অবরোধ কর্মসূচির কারণে খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন ও ব্যবসাবাণিজ্যে ব্যাপক ধস নেমেছে। রাঙামাটির এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার একমাত্র পথ খাগড়াছড়ি হওয়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এখানকার স্থানীয় বাজারে। পর্যটকের আনাগোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির শতাধিক দোকানপাট, হোটেল এবং পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঋণ বা কিস্তির টাকা পরিশোধ করা এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

খাগড়াছড়ি শহরের আদালত সড়কে কাপড়ের দোকান পরিচালনা করা বিকিরণ রোয়াজার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে শুধু কিস্তি বাবদ পরিশোধ করতে হয় ৩৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন মিলিয়ে আরও প্রায় ১৭ হাজার টাকার খরচ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে তাঁর দৈনিক গড়ে ১০ হাজার টাকার মতো বেচাবিক্রি হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে দোকানে একটি থান কাপড়ও বিক্রি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা তো দূরের কথা, জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

একই রকম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন শহরের জুমলাইন মার্কেটের পাহাড়িকা নামের একটি দোকানের কর্মচারী মেকি চাকমা এবং শাপলা চত্বর এলাকার সাদামাটা হোটেলের মালিক দিদারুল আলম। স্থানীয় ক্রেতাদের আকর্ষণ ভিন্ন হওয়ায় তাদের মূলত পর্যটকদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সাজেকগামী পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় হোটেলগুলোতে প্রতিদিন বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। মিলনপুর এলাকার গাইরিং হোটেলের ব্যবস্থাপক জানান, তাঁদের হোটেলের অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে এবং অনেক হোটেলের তো কোনো অতিথির দেখা মিলছে না।

পর্যটকের এই খরা কেবল বাণিজ্যিক বিপণিবিতান বা হোটেলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্থানীয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও এর গভীর প্রভাব পড়েছে। পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কর্মচারী মনতোষ ত্রিপুরা জানান, সাজেক সচল থাকা অবস্থায় যেখানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শ টিকিট বিক্রি হতো, সেখানে এখন নামমাত্র স্থানীয় দর্শনার্থীও আসছেন না। ফলে পার্কের ভেতরে থাকা জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইংয়ের মতো রাইডগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মূলত সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চলা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং এর জেরে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশনার কারণেই পর্যটন খাত স্থবির হয়ে পড়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: