শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন কমিটির প্রস্তুতি ১১ দলের হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষাগুরু শাহনাজ পারভীন | একজন শিক্ষক: প্রজন্মের কারিগর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের জোর করে ঠেলে পাঠানোর নিন্দা জানাল ভারতের নাগরিক সমাজ সরকারিভাবে বিনাখরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি: অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে, যেসব নথিপত্র লাগবে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে দিনমজুরের টাকায় তিন সড়কে ১১ যাত্রীছাউনি ৪৫তম বিসিএসে গেজেট বঞ্চিতদের রি-ভেরিফিকেশন চালু, সিদ্ধান্ত চলতি মাসে আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আইনপ্রণেতা, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার মানুষের মতো বক্সিং, মার্শাল আর্ট, টেবিল টেনিস খেলছে রোবট!

ট্রিলিয়ন ডলারের চিপের বাজার, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের চাহিদা দিন দিন অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিটি যন্ত্রে এই অতি ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম হওয়ায় এর বৈশ্বিক বাজার খুব শীঘ্রই এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এই বিশাল বাজারের অংশীদার হওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন উদীয়মান দেশ নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। প্রযুক্তির এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পিছিয়ে থাকতে চায় না বাংলাদেশও। দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা এবং আইসিটি খাতের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে এই সম্ভাবনাময় খাতে যুক্ত হওয়ার নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

আমাদের দেশে বিগত কয়েক বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছে যা এই উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে প্রবেশের পথ সহজ করতে পারে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার দক্ষ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন যারা মাইক্রোচিপ ডিজাইন এবং সফটওয়্যার উন্নয়নে নিজেদের পারদর্শিতা প্রমাণ করছেন। তাছাড়া সরকারের তরফ থেকেও হাইটেক পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। চিপ ডিজাইনিং বা নকশা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি তরুণদের মেধা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কাড়ছে যা দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।

তবে বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কেবল মেধা থাকলেই যথেষ্ট নয় বরং প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিশাল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ। চিপ উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এটি পরিচালনার জন্য উন্নত ল্যাবরেটরি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একান্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হলে দেশি শিল্পোদ্যোক্তা এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

দেশের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশও বৈশ্বিক চিপ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি খাতের প্রবৃদ্ধি বহুগুণ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের এই বাজারে নিজেদের স্থান করে নিতে হলে এখনই অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: