বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
রোনালদোকে নিয়ে সৌদি সাংবাদিকের দাবিতে তুমুল বিতর্ক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলছে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি, আটকা ৪৫০ পণ্যবাহী ট্রাক ব্যবসায়ী সংগঠন রাজনীতির বাইরে থাকলে সরকারেরই লাভ উইকেটের খোঁজে বাংলাদেশ লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ব্রিটিশ বাংলাদেশি কিশোর নাভহান খুলনার ইন্দ্রমোহন সুইটসের ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, বিশেষত্ব কী এক লাফে ৫৪৮২ টাকা বাড়ল সোনার দাম নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ইরান, রাশিয়াসহ বিশ্বের ওপর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের কী প্রভাব পড়বে?

মার্কিন ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফরিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস তৈরির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রভাবশালী নেতা হাকিম জেফরিস। আগামী জানুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে তার। এমনটি বাস্তবায়িত হলে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবেন। বিগত এক দশক ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার বিচক্ষণতা এবং কর্মতৎপরতা প্রবীণ ডেমোক্র্যাট নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ফলে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও দলের ভেতরে সুনির্দিষ্ট ছক কষেই তাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।

কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রবীণ ডেমোক্র্যাট নেতারা বহু আগে থেকেই হাকিম জেফরিসের মাঝে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বড় সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এডি বার্নি জনসন সহ দলের কৃতি ব্যক্তিত্বরা তাকে ন্যান্সি পেলোসির উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেছিলেন। নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দলীয় সহকর্মীদের আস্থার কারণে আজ তিনি এই ঐতিহাসিক অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে এই শীর্ষ পদে বসার যাত্রাপথে তাকে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ এবং বড় ধরনের নেতৃত্বের পরীক্ষা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হলে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখা এবং জোরালো জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে তার অন্যতম প্রধান কাজ। বিশেষ করে বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত প্রভাব এবং নীতিমালার বিরুদ্ধেও তিনি শক্ত অবস্থান নিতে বদ্ধপরিকর। তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে বিত্তবানদের ওপর করারোপ বৃদ্ধি করা, ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো এবং সুপ্রিম কোর্টের জন্য কঠোর নৈতিকতা বিধি প্রণয়ন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ দেশব্যাপী সম্প্রসারণের বিষয়গুলোতেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান।

তবে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভিন্ন উপদলের মতপার্থক্য সামলানো তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে জেফরিসের মধ্যপন্থি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দলের প্রগতিশীল ও বামপন্থি অংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে, দলটির জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক ঐতিহ্য ভাঙতে এবং নেতৃত্ব কাঠামোয় প্রজন্মগত পরিবর্তন আনতে তরুণ নেতারাও চাপ সৃষ্টি করছেন। সব মিলিয়ে, দলের ভেতরের বহুমুখী বৈরিতা ও মতপার্থক্য দূর করে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দেওয়াই হবে তার মূল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: