শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মানসিক রোগীর চরিত্র আর মারধরের অভিযোগ: বিরোধে জড়ানো দুই অভিনেত্রী ফ্যাশন দ্বৈরথেও কম যান না বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান ঘুমিয়ে মিলল ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ফ্রিতে ছুটি কাটানোর সুযোগ ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় হট্টগোল গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, দেওয়া হবে মোবাইল বিলও সীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে: তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বন্দীদশা থেকে যেভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন জিয়াউর রহমান বেসরকারি সংস্থায় ৪০০ পদে নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠন করবে বিরোধী জোট

ইবনে জাদআনের ঘর: ‘হিলফুল ফুজুল’ যেখানে গঠিত হয়

নিউজ ডেস্ক: ইসলামপূর্ব আরবের ইতিহাসে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত হিলফুল ফুজুল চুক্তি। এই ঐতিহাসিক পাক্ষিক চুক্তিটি যে স্থানে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন মক্কার নানা স্মৃতি। তৎকালীন সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘরটির মালিক ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন জুদান, যার নামানুসারে জায়গাটি পরিচিত লাভ করেছিল। পরবর্তীতে সময়ের পালাবদলে এই ঐতিহাসিক স্থানটির মালিকানা হাতবদল হয়ে খলিফার ক্রীতদাস আবু ইয়াজদাদের কাছে চলে যায়।

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই পবিত্র স্থানটির রূপান্তর ঘটেছে। দীর্ঘকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর মক্কা নগরীর আধুনিক সম্প্রসারণ কাজের অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক ভবনের স্থানটি মসজিদে হারামের মূল চত্বর বা সিঁড়িতে পরিণত করা হয়েছে। ফলে প্রাচীন সেই ঘরের মূল অবকাঠামো আজ আর দৃশ্যমান না থাকলেও, এর ভূপ্রকৃতি ও অবস্থান আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাজি ও দর্শনার্থীরা প্রতিদিন এই এলাকার ওপর দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ প্রাঙ্গণে যাতায়াত করেন।

আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগে মক্কায় যখন অন্যায়, অবিচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চরমে পৌঁছেছিল, তখন সমাজের শান্তিপ্রিয় কিছু মানুষ একতাবদ্ধ হন। তৎকালীন সমাজে দুর্বল ও অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষা এবং মজলুমদের সহায়তার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় এই শান্তি চুক্তি। আব্দুল্লাহ বিন জুদানের বাড়িতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মক্কার বিভিন্ন গোত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পরও এই চুক্তিকে অত্যন্ত মহৎ ও ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন।

কালের স্রোতে প্রাচীন মক্কার অনেক স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে গেলেও ঐতিহাসিকদের গবেষণা ও বর্ণনায় এই স্থানটির গুরুত্ব আজও অম্লান। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হিলফুল ফুজুল চুক্তির পটভূমি এবং এর আদর্শ তুলে ধরতে এই স্থানটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী আরব সমাজের সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে এই চুক্তিটিকে অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা হয়। গবেষক ও ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সঠিক সংরক্ষণ ও পরিচিতি নতুন প্রজন্মকে প্রাচীন আরব সমাজের বহুমুখী সংস্কার ও মানবতার ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: