শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক :: রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকা নিয়ে একটি মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুলিস্তান হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাস ও শম্পা বসু।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিপ্লব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নারী অধিকার, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছিল।
তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং খুন-ধর্ষণের মতো সংকটে জর্জরিত। সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা বিক্রি, অসম বাণিজ্য চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা এবং পরিবেশবিধ্বংসী বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৮ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক তৌফিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৩ হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ জরুরি। পুঁজিবাদী শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।