রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন
আতিয়ার রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নড়াইল:
ঋতু পরির্বতনের সঙ্গে সঙ্গে শীতের শুরুতেই নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গাছিরা খেজুর গাছের মাথা পরিস্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আর অন্যদিকে মা-চাচিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন পিঠাপুলি, ক্ষীর, পায়েস তৈরির চালের গুড়া তৈরিতে।যদিও আগের মতো গ্রাম্য পরিবেশে তেমনটা আর লক্ষ্য করা যায় না।
শীত মৌসুমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে খেজুরের রস আর ক্ষীর, পায়েস ও নানা রকমের পিঠা পুলি। কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে, মাঠে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটাই প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। তবে পূ্র্বের ন্যায় এখন আর তেমন চোখে পড়ে না ক্ষেতের আইলে ও মাঠজুড়ে খেজুরে গাছের বাগান।
শীতের সকালে রসের স্বাদ নেয়ার মজাই আলাদা। শীতের সকালে দল বেঁধে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং বাড়িতে এনে সবাই মিলে সকালের টাটকা রস খাওয়ার মজা ভুলে যাওয়ার মতো নয়।
ইতোমধ্যে শীতের আবহাওয়া শুরু হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের প্রত্যেকটি মাঠে ও বসত বাড়ির আঙিনায় গাছিরা দা-খুমি নিয়ে ছুটছেন সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত। রসের জন্য গাছিরা খেজুর গাছগুলো প্রস্তুত করছেন।
উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের গাছি মহাচ্ছেন শেখ, মশিয়ার শেখ ও নজরুল শেখ বলেন, আমরা প্রতিবছর শীত মৌসুমে খেজুর গাছ কাটার কাজ করে থাকি। আমরা নিজেদের গাছ কাটার পাশাপাশি অন্যের গাছও কাটি। গাছ কাটলে টাকা পাই। খেজুর গাছের মাথা প্রতি দুইশত টাকা পাই। যা গতবছরের তুলনায় একটু বেশী।এছাড়া গত বছর এক ভাঁড় রস বিক্রি করেছি চারশত থেকে পাঁচশত টাকা পযর্ন্ত।
উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের মরিচ পাশা গ্রামের সেকেন্দার মোল্যা বলেন,শীতকালে খেজুরের রস না হলে আমাদের একদমই চলে না।আমরা খেজুরের রস সংগ্রহ করে শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা পায়েস খেয়ে থাকি।আমরা প্রতি ভাঁড় রস সাড়ে তিনশত থেকে চারশত টাকায় ক্রয় করে থাকি।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুনমুন সাহা বলেন, লোহাগড়া উপজেলাতে আগের তুলনায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। তবে এখন খেজুরের গুড়ের চাহিদাও আছে। এখানকার খেজুরের গুড় নিজের এলাকার চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও সরবরাহ করা হয়ে থাকে।