বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সিইসির সহায়ক হিসেবে ২০ কর্মকর্তা নিয়োগ গোপালগঞ্জে বাস থেকে তিন কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নড়াইলে জাতীয় মৎস্য পক্ষ এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ উত্তর-পূর্ব সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য উদ্ধার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড উজিরপুরে ৪১ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি হারতা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর উদ্বোধন জলাবদ্ধতায় নাকাল গৌরনদী পৌরবাসী, ডেঙ্গু ও চর্মরোগের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ইতিহাস পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ১৫ আগস্ট ঘিরে টুঙ্গিপাড়ায় নিরাপত্তার চাদর, প্রতিটি মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি

মুসা (আঃ)-এর সাথে এক কসাইয়ের জান্নাতি হওয়ার কাহিনী

একদা মুসা (আঃ) আল্লাহ তাআলার কাছে মুনাজাত করে বললেন, হে আল্লাহ! জান্নাতে আমার সঙ্গী কে হবে? দুনিয়াতেই তার সাথে আমার সাক্ষাৎ করিয়ে দিন।

তখন জিবরাঈল (আঃ) আগমন করলেন এবং বললেন, হে মুসা! ওমুক এলাকার ওমুক কসাই ব্যক্তিই হবে তোমার জান্নাতের সঙ্গী।

একথা শুনে মুসা (আঃ) কিছুটা বিস্মিত হলেন এই ভেবে যে, তাঁর মত নবীর জান্নাতের সঙ্গী হবেন সাধারণ একজন কসাই! তাঁর জানার আগ্রহ হল যে, কসাই লোকটি কি এমন আমল করে যার বদৌলতে জান্নাতে সে নবীর পাশাপাশি অবস্থানে থাকার মর্যাদা লাভ করবে!

মুসা (আঃ) ঠিকানা মোতাবেক উক্ত কসাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য তার দোকানে গেলেন। যুবক বয়সী একজনকে গোস্ত বিক্রিতে মগ্নাবস্থায় দেখতে পেলেন। মুসা (আঃ) গভীর মনযোগ দিয়ে লোকটির কাজকর্ম লক্ষ্য করতে লাগলেন। কিন্তু এমন কোন বিশেষ আমল তার চোখে পড়লো না, যার বদৌলতে লোকটি নবীর সাথে জান্নাতে প্রবেশের মর্যাদা লাভ করতে পারে।

যখন সন্ধ্যা নেমে এল। তখন কসাই ব্যক্তি গোস্তের একটি থলে নিয়ে বাড়ীর দিকে রওনা হল। মুসা(আঃ)-ও উক্ত কসাইয়ের পিছু নিলেন। নিজের পরিচয় গোপন করে তার বাড়ীর মেহমান হবার আবেদন করলেন। কসাই লোকটিও রাজী হয়ে গেল।

কসাই বাড়ীতে পৌঁছে নিজ হাতে খাবার তৈরী করল। তারপর ঝুলন্ত একটি ঝুড়ি নামাল যাতে একটি বৃদ্ধা ছিল। বৃদ্ধাকে ভাল করে গোসল করাল। তারপর তাকে নিজ হাতে খানা খাওয়াল। খানা শেষ হলে বৃদ্ধাকে আবার আগের স্থানে রেখে দিল। মুসা (আঃ) লক্ষ্য করলেন উক্ত বৃদ্ধা বিড় বিড় করে কি যেন বলছে। বয়সের ভারে ন্যূজ উক্ত বৃদ্ধার মুখের জড়তার কারণে তার অস্পষ্ট সেসব কথা পরিস্কারভাবে বুঝা যাচ্ছিল না।

এরপর কসাই ব্যক্তি মুসা(আঃ)-কে মেহমানদারী করালেন। তার সামনে খানা পেশ করলেন। খানা শুরু করার আগেই মুসা (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ এ বৃদ্ধা কে?

কসাই লোকটি জবাব দিল, আমার মা। আমি তার খিদমাত করি।

মুসা (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, একটু আগে তোমার মা নিজের ভাষায় বিড় বিড় করে কী বলছিল?

কসাই জবাব দিল, আমি যখনই মায়ের খিদমাত করি তখনই তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, এবং তোমাকে জান্নাতে মুসা নবীর সঙ্গী বানান’।

মুসা (আঃ) বললেন, হে যুবক! আমি তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি, আল্লাহ তাআলা তোমার মায়ের দুআ কবুল করেছেন। আমি আল্লাহ তাআ’লার কাছে জান্নাতে আমার সঙ্গী কে হবে- তা জানতে চেয়েছিলাম। তখন আল্লাহ তাআলা তোমার কথা বলেছেন। আমি তোমার পরিচয়ের জন্য তোমার পিছু নিয়েছিলাম কিন্তু আমি তোমার মাঝে মায়ের খিদমাত ছাড়া কোন বিশেষ আমল খুঁজে পাইনি। এর মানে হল, মায়ের খিদমাতের পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাআলা তোমাকে জান্নাতে আমি মুসার সঙ্গী হবার নিয়ামত দান করেছেন।

(জামে তিরমিযী,হাদীস : ২৪৩৩;) (মুসনাদে আহমাদ,হাদীস : ১২৮২৫)


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: