বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
আবদুল মান্নান কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দশ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনের তালিকায় থাকা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হাফিজুরের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে তনুর বাবা, মা ও ভাই উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লার আদালত পরিদর্শক মামুনুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর হাফিজুর রহমানকে পিবিআইয়ের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে গত ৬ এপ্রিল মোমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে হাজির হন। এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। অপর দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তাঁরাও সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে। তাঁরা ঘটনার শুরু থেকেই নামগুলোর কথা বলে আসছেন। শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তাঁরা তখন জানেননি, সৈনিক জাহিদের নামটি বারবার আলোচনায় এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁকে তনু হত্যা মামলা গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কুমিল্লার আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা তাকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল আদালতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী তনু হত্যা মামলার তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার অনুমোদন চায় পিবিআই। এ তিনজন হলেন- কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যা মামলায় গত ১০ বছরে ৮০ টি শুনানির তারিখ অতিবাহিত হয়েছে এবং চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন।