বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচ তাদেরই হাতে থাকায় যে কোনো মুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন চক্রান্ত এবং ভারতের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়। রিজভী অভিযোগ করেন যে, ১৭ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়ন, ব্যাংক লুটপাট ও গুম-খুনের অধ্যায় পার হয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ একটি গণতান্ত্রিক পথে হাঁটলেও পার্শ্ববর্তী দেশের নানা ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বক্তব্যে ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি দাবি করেন যে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও মূলত তাকে সাইডলাইনে বসানোর একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মর্যাদা রক্ষার্থেই তিনি সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী যখন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, ঠিক তার পরের দিনই ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর প্রচার করা হয়। ১৩০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে থাকায় তা যেকোনো সময় বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমালোচনা করে রিজভী আরও প্রশ্ন তোলেন যে, অতীতে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন চৌদ্দশ মানুষকে হত্যা করার পর খুনিরা কেন ভারতে আশ্রয় পেয়েও ফেরত আসছে না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বহু অপরাধী বর্তমানে ভারতে পালিয়ে রয়েছে এবং তাদের কেন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কোনো নতুন সরকারের তৈরি নয় বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান সরকার এই সংকট নিরসনে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির বিকল্প প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর মধ্যেও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে দেশের অভ্যন্তরে চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার ইঙ্গিত করে বলেন, ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তি এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠী নানা উপায়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। মধুর ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে তারা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তবে এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন সাধারণ জনগণ যে কোনো ধরনের চক্রান্ত ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেকোনো মূল্যে রক্ষা করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।