বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ অক্টোবর

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সম্প্রতি শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সূচিত হতে চলেছে।

প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, মামলার ৪১ জন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ মোট ৩০ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে অবহিত করেন যে, পলাতক আসামিদের হাজির করার উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা নির্দিষ্ট সময়ে আত্মসমর্পণ করেননি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের নিকট আবেদন জানানো হয় যাতে অনুপস্থিত আসামিদের বিচার কার্যক্রম শুরু করা যায় এবং তাদের আইনি সুরক্ষার জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের এই যুক্তি এবং আবেদন আমলে নিয়ে নির্ধারিত দিনে শুনানির নতুন এই দিন ধার্য করেন।

শুনানি শুরুর আগে মামলার গ্রেফতারকৃত ১১ জন আসামিকে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এই বন্দি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। এছাড়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের মে মাসের ওই সময়ে রাজধানীর মতিঝিল ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঐ সময়ের সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৫৮ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: