বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের সময় সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকারদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয় এবং তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মিরপুর দশ নম্বর গোলচত্বর সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের একটি দল বুলডোজার নিয়ে ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট সরাতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ কাজের সময় একটি ভেকুর ধাক্কায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন আশপাশের কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুড়ে ছাই হয়ে যায় অনেক ব্যবসায়ীর পণ্য। আগুনে নিজেদের দোকান ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় দোকানি ও হকাররা।
উত্তেজিত জনতা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সিটি করপোরেশনের একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং পুলিশের গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ছাড়াও গাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিরপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অভিযান চালিয়ে অন্তত ত্রিশজনকে আটক করেছে পুলিশ। মিরপুর অঞ্চলের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে সহিংসতায় সরাসরি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুপুরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।