শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটে মাঠে নামে না ভারত ও পাকিস্তান। যে কারণে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলকে কেবল এশিয়া কাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টগুলোতেই মুখোমুখি হতে দেখা যায়। আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন কাঠামো ও গ্রুপ বিন্যাসের কল্যাণে ক্রিকেটপ্রেমীরা একই টুর্নামেন্টে এই দুই দলের একাধিক লড়াই দেখার রোমাঞ্চকর সুযোগ পেতে পারেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী এই দুই দলকে একই গ্রুপে রাখা হয়েছে। ১৪ দলের অংশগ্রহণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের নতুন ফরম্যাটের কারণে দল দুটি গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার সেভেন এবং পরবর্তীতে নকআউট পর্বে উন্নীত হলে তিনবার পর্যন্ত একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে। এর আগে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ও ফাইনাল মিলিয়ে দুইবার মুখোমুখি হওয়ার রেকর্ড থাকলেও এক টুর্নামেন্টে তিনবার লড়াইয়ের এমন ঘটনা বিশ্ব আসরে কখনোই ঘটেনি।
আসন্ন এই মেগা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোকে দুটি ভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে এবং গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে দলগুলোকে সুপার সেভেন পর্বে লড়তে হবে। এই সুপার সেভেন এবং পরবর্তীতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সমীকরণ যদি সঠিকভাবে মিলে যায়, তবেই কেবল ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ হয়ে তিনবার মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে এই দুই দলের মাঠের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তাদের অগ্রযাত্রার ওপর।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকায় এবং ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে দুই দলের লড়াই সীমিত হয়ে পড়ায় সমর্থকরা সবসময়ই এই ম্যাচগুলোর অপেক্ষায় থাকেন। যদি সব সমীকরণ মিলে যায় এবং তারা ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনবার মুখোমুখি হয়, তবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াই ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করবে। আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই বিশ্ব আসরের।