মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

সৌদির বিমানবন্দরে সীমিত কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ৮ হাজারের বেশি যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর তাদের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এবং সেদেশ থেকে আগমনী ফ্লাইটের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি এবং ট্রানজিট উভয় প্রকার উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন কিংবা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট নিরসনে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই জটিলতার কারণে অন্তত ৬১টি ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিচালনা ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ২২টি এবং ট্রানজিটভিত্তিক ৩৯টি ফ্লাইট রয়েছে। এই ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে জড়িত ৮ হাজার ৩ শতাধিক যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে রিয়াদ এয়ারওয়েজের প্রকৃত যাত্রীসংখ্যা এখনও হিসাবের বাইরে রয়েছে, যা যুক্ত হলে ক্ষতিগ্রস্তের মোট সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট। পাশাপাশি, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট এই বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে। নিরাপত্তা ও অপারেশনাল নানা কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সকল ফ্লাইট বেশ কিছুদিন স্থগিত রাখতে হয়েছে। আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল বা শিডিউল পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিককে বিমানবন্দরের টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যাদের অনেকেই কাজের মেয়াদ শেষ করে দেশে ফিরছিলেন কিংবা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিমানবন্দরগুলোর দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম পুনরায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চলাচলও দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন যাত্রীদের এই সাময়িক দুর্ভোগও লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: