বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

আশঙ্কা থাকলেও মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনতে শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নীতিনির্ধারকেরা সুষ্ঠু নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করলেও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে নেই। ইতিমধ্যে দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজও প্রায় শেষ করে এনেছে দলটি। বিগত জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকেই মূলত এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনে যাঁদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, তাঁদের নিয়ে ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি। স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান সুসংহত করতে এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন অর্জনে এসব বহুমুখী কর্মসূচি বেশ জোরালোভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের কর্মীরা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত বিভিন্ন সামাজিক ও জনহিতকর কর্মসূচিকে প্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া জনবহুল বাজার ও মোড়ে মোড়ে পথসভা, গণজমায়েত এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের সম্পৃক্ত করতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন, গ্রামীণ জনপদে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা এবং দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজ করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এসব প্রচার কার্যক্রমের গতি ও ধরন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকেই মাঠপর্যায়ের সমস্ত প্রস্তুতি সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে কয়েক মাস আগেই জেলা ও মহানগর শাখাগুলোকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আসনে প্রার্থী ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্তকরণের আলোচনা চলমান রয়েছে এবং তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অন্যান্য দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিলেও, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলের প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি, জনসমর্থন এবং প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করার সুযোগ পাবে জামায়াত। বিগত জাতীয় নির্বাচনে দলের উল্লেখযোগ্য সাফল্যে নারী কর্মীদের বিশেষ অবদান ছিল, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কাজে লাগাতে চায় দলটি। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও গ্রাম ও মহল্লায় ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং নারী প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরার কাজে দলটির মহিলা বিভাগের কর্মীরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

অবশ্য মাঠপর্যায়ে দল গোছানোর কাজ পুরোদমে চললেও নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে এখনো বেশ কিছু সংশয় রয়েছে জামায়াতের শীর্ষ মহলে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মনে করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ফারাক থাকার কারণে নির্বাচনের মূল তফসিল ঘোষণা হওয়াই বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে একধরনের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিরপেক্ষতা বজায় না থাকলে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে সেই নির্বাচন অবাধ হওয়া নিয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়। তা সত্ত্বেও সমস্ত প্রতিকূলতা ও আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেও নিজেদের প্রস্তুতি থামিয়ে রাখছে না দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হাজার হাজার পদ থাকায় বড় কোনো জোটের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন জামায়াত নেতারা। তাই সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনসম্পৃক্ততার ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল দলের পূর্ণাঙ্গ শক্তি মাঠে প্রতিফলিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তাঁরা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: