বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কারকাজের নিম্নমান দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সম্প্রতি দুপুরবেলা আকস্মিকভাবে এই কারখানা পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় রেলকোচ মেরামতের বিভিন্ন ত্রুটি এবং কাজে অবহেলা তার দৃষ্টিগোচর হয়। বিশেষ করে যাত্রীবাহী ট্রেনের জানালা সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের চিত্র দেখে তিনি চরম ক্ষুব্ধ হন।
পরিদর্শনকালে কারখানার সার্বিক কাজের মান নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এখানে যেভাবে জানালার সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে, তার চেয়ে ঢের ভালো কাজ যেকোনো সাধারণ ও ছোট ওয়ার্কশপেও করা সম্ভব। কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি উদাসীনতা দেখে তিনি তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং জানতে চান যে নিজেদের ব্যক্তিগত বাসাবাড়ির কোনো কাজের ক্ষেত্রেও তারা এমন অবহেলা করতেন কি না। কাজের এই শোচনীয় অবস্থা নিজ চোখে না দেখলে তিনি কখনোই বিশ্বাস করতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন।
কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদসহ উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তীব্র তিরস্কার করেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কাজের মান দেখার পর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একপর্যায়ে কাজের এই নিম্নমান দেখে তিনি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনে কোচ সংস্কারের পুরো কাজই সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
পরে কারখানার বিভিন্ন বিভাগ বা শপ ঘুরে দেখার সময় মন্ত্রী যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও অবহেলা থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দেন। অন্যথায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
এদিনের পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব ছাড়াও তার একান্ত সচিব হাবিবুল হাসান রুমি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা, কারখানার কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলামসহ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।