শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ইসরায়েলে রেজিম চেঞ্জ: ফিলিস্তিননীতির পরিবর্তন, নাকি দখলদারত্বের নতুন কৌশল সামান্তার পদত্যাগ নিয়ে মাহফুজ-জারার প্রতিক্রিয়া ডাক্তার তো দিতেই পারেন না, পোস্ট ভূরি ভূরি খালি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাফিয়া ব্যাগের আড়ালে মাদাগাস্কারের যে গল্প লুকিয়ে আছে সংবিধান সংশোধনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে চালের, কমছে শীতের সবজির শর্টকাটে টাকা ইনকামের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী ৩০ কেজি চালের বদলে কেউ পেলেন ৪৫০ টাকা, কেউ কোনোটিই পাননি জেন্ডার বাজেটের প্রকৃত বাস্তবায়ন জরুরি তিন জেলায় নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, বছরে মোট উৎপাদনের লক্ষ্য ২৭ লাখ টন

তিন জেলায় নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, বছরে মোট উৎপাদনের লক্ষ্য ২৭ লাখ টন

নিউজ ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে এই আধুনিক কারখানাগুলো নির্মাণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বার্ষিক সার উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা। বর্তমান চাহিদার তুলনায় দেশীয় উৎপাদন কম থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সার আমদানিতে সরকারের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, যা এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, ভোলার প্রস্তাবিত কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার জন্য নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের খালি জায়গায় বার্ষিক চার লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতার একটি নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ বা ইউএফ-৮৫ উৎপাদনের আরেকটি কারখানা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলোর অবকাঠামোগত সুযোগ পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশের সার চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং এর বিপরীতে সরকারকে প্রতি মেট্রিক টনে উচ্চ হারে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিসিআইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার তুলনায় দেশীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন বেশ কম হওয়ায় সিংহভাগ চাহিদা মেটাতে আমদানি ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। এই আর্থিক চাপ কমাতে এবং সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে নতুন কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর কাজও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন এই তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দেশের কৃষিক্ষেত্রে সার সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে কারখানা পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় হাজার হাজার মানুষের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মোল্লা বাবুল মিঞা জানিয়েছেন যে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, সঠিক অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: