শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগ, বেতন ৫২ হাজার টাকা ইসরায়েলে রেজিম চেঞ্জ: ফিলিস্তিননীতির পরিবর্তন, নাকি দখলদারত্বের নতুন কৌশল সামান্তার পদত্যাগ নিয়ে মাহফুজ-জারার প্রতিক্রিয়া ডাক্তার তো দিতেই পারেন না, পোস্ট ভূরি ভূরি খালি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাফিয়া ব্যাগের আড়ালে মাদাগাস্কারের যে গল্প লুকিয়ে আছে সংবিধান সংশোধনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে চালের, কমছে শীতের সবজির শর্টকাটে টাকা ইনকামের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী ৩০ কেজি চালের বদলে কেউ পেলেন ৪৫০ টাকা, কেউ কোনোটিই পাননি জেন্ডার বাজেটের প্রকৃত বাস্তবায়ন জরুরি

সংবিধান সংশোধনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘ দিন ধরে একটি বড় সংকট লক্ষ্য করা যায়, আর তা হলো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে মুখোমুখি বসে আলোচনা করার অনীহা। সংবিধানের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দেশের মৌলিক দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা প্রায়ই প্রকট হয়ে ওঠে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের সঙ্গে সংলাপে বসার সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে। অতীতেও দেখা গেছে যে কোনো বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার চেয়ে দূরত্বই বেশি তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান সংশোধনের মতো দূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে কিংবা কেবল একটি পক্ষের ইচ্ছায় বাস্তবায়িত হলে তার স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অতীত আচরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আলোচনার টেবিল থেকে দূরে থাকার এই পুরোনো অভ্যাস উভয় শিবিরের মধ্যেই কমবেশি বিদ্যমান। অথচ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলতে হলে সব পক্ষের মতামত এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। এই দূরত্ব বজায় রাখার ফলে সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া প্রায়শই রাজনৈতিক সংকটের আবর্তে পড়ে যায়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবিধান হলো এমন একটি চুক্তি, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এই দলিল পরিবর্তনের সময় খোলামেলা আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অনমনীয় মনোভাবের কারণে অনেক সময় সেই সুস্থ পরিবেশ তৈরি হয় না। জনগণের প্রত্যাশা হলো, দলগুলো তাদের এই সংকীর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থে অন্তত মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে এক টেবিলে বসবে।

পরিশেষে বলা যায়, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াকে অর্থবহ ও জনবান্ধব করতে হলে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের পুরোনো বৈরী মনোভাব পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মতবিনিময়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তবেই একটি শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, যা দেশের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: