মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

চর রমিজ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুবুর রহমান বাবু

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর :: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৭নং চর রমিজ ইউনিয়ন পরিষদে আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা ও স্বনামধন্য সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বাবু। ইতিমধ্যে তিনি ইউনিয়নবাসীর সাথে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য স্বাক্ষ্যাৎ করে ভোটারদের মতামত ও পরামর্শ চাইছেন। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ও ভোটাররা সৎ বিনয়ী যোগ্য এ প্রার্থীকে সাড়াও দিচ্ছেন।

সাংবাদিক মাহবুবুুর রহমান বাবু চর রমিজ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক সরকারী কর্মকর্তা ছায়েদুল হক মিয়ার সন্তান। তার এক ভাই নোয়াখালী জেলার সাবেক সিভিল সার্জন বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক (উপ সচিব পদ মর্যাদা) পদে কর্মরত আছেন। সাংবাদিক মাহবুবুুর রহমান বাবু দীর্ঘদিন থেকে জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে আসছেন। তার লেখনীতে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাজ সচেতনতামূলক বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

তিনি স্কুল জীবন থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় আছেন। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক পদে দায়িত্বে থাকাকালীন ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারী স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার ডাকে চট্টগ্রাম লালদিঘীর মাঠের জনসভায় সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করে পুলিশের গুলিতে আহত হন। চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ১৯৮৯ সালের ২৯ অক্টোবর ও ১৯৯০ সালে বঙ্গবন্ধু ভবনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সহ সাক্ষ্যাৎ করেন। তিনি এসময় চট্টগ্রামে জামাত শিবির কর্তৃক দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা ও নির্যাতনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের নেতা হিসাবে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন বেগবানে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালের ১৮ নভেম্বর পুলিশ কর্তৃক আটক হয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে ৩০দিন কারাভোগ করেন। ১৯৯৫ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেফতার হয়ে তিনমাস কারা ভোগ করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন করেন এতে হামলা, মামলা ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। আলোচিত ১/১১ সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হলে তৎকালীন সামরিক বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজ ইউনিয়নে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কর্মসূচী সক্রিয়ভাবে পালন করেন। করোনাকালে লকডাউনে নিজ ইউনিয়নের জনগণ কর্মহীন হয়ে পড়লে প্রায় পাঁচ শতাধীক পরিবারকে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য উপহার প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সুনামের সাথে কাজ করছেন।

আসন্ন চর রমিজ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাহবুবুর রহমান বাবু বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন এবং ভোটারদের মাঝে সরকারের উন্নয়নের প্রচারণায় কাজ করেছি। চর রমিজের জনগনের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন করতে আমি বদ্ধপরিকর। নৌকা প্রতীকে জনপ্রতিনিধি হলে চর রমিজকে অপরাধমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেকে নিয়োজিত করবো।

আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চেতনার আওয়ামীলীগ আমার প্রেরণার বাতিঘর এবং আমার পথচলার শক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা আর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশের রূপরেখায় অপরাধমুক্ত সুশিক্ষিত সমাজ গড়ার লক্ষে আমি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য যে সোনার মানুষ প্রয়োজন, আমি কথা দিচ্ছি এলাকার মানুষ আমাকে সেই সোনার মানুষ হিসাবে পাবেন । কথায় নয়, কাজেও পাবেন। আশা করি যোগ্যতা বিবেচনায় আওয়ামী লীগ আমাকে স্বাগত জানাবে।

মাহবুবুর রহমান বাবু বলেন, উন্নয়নে দেশ এগিয়ে গেলেও চর রমিজে সার্বিক উন্নয়ন হয়নি। অশিক্ষা, দুর্নীতি আর অপরাধ প্রবণতা আমাদের এ জনপদকে খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। যদিও জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশ প্রেমিক সরকার এ খাতে উন্নয়ননের জন্য ব্যাপক বরাদ্দ এবং কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরসূরী হিসেবে চুপ করে বসে থাকা আমার বিবেকের কাছে সমীচীন বলে মনে হচ্ছে না। তাই এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে মাটি ও মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, আমি চর রমিজ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা প্রতিকের মনোনয়ন যদি পাই তবে নির্বাচিত হয়ে এলাকার কাজ করার ক্ষেত্রে আমার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে ।
১। সরকারের প্রদত্ত সকল প্রকারের সুবিধা পরিপূর্ণরুপে জনগণের দরজায় পৌঁছে দেওয়া এবং চর রমিজকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গঠন করা।
২। সরকার প্রদত্ত সকল প্রকার ভাতা সুষম বন্টন নিশ্চিত করা।
৩। দূর্নীতি, চাঁদাবাজি,ও মাদক মুক্ত ইউনিয়ন গঠনে বদ্ধপরিকর।
৪। গরিব মেয়েদের বিয়ে, মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষা, এবং চিকিৎসার অভাবে যেন কোন রোগী মারা না যায় সে জন্য একটি বিশেষ ফান্ড করে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
৫। মসজিদ, মন্দির, স্কুল, মাদ্রাসা ও মক্তব এর জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা।
৬। গ্রাম আদালতকে কার্যকর করে দ্রুত সময়ে পূর্বে বিচারাধীন সকল প্রকার মামলার বিচার নিষ্পত্তি করা।
৭। সকল প্রকার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ।
৮। খেলাধুলার উন্নয়নে বিশেষ ফান্ড গঠন করা।
৯। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা।

মাহবুবুর রহমান বাবু আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশের রূপরেখায় যোগ্যতা বিবেচনায় আমাকে আসন্ন চর রমিজ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা প্র্রতিকের মনোনয়ন দেবেন এ আমার বিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি