শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
পিআইবি’র নতুন পরিচালনাবোর্ড গঠন লকডাউন শেষে এখন শাটডাউন খেলা শুরু করছে সরকার : মান্না ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ২৬৪ বাংলাদেশি উদ্ধার হাতীবান্ধায় মধ্যরাতে গোয়াল ঘরে আগুন, গরু বাঁচাতে গিয়ে ২জন অগ্নিদগ্ধ গ্রাম হচ্ছে শহর প্রাণভোমরা ডিজিটাল সেন্টার – পরীক্ষিৎ চৌধূরী সুইজারল্যান্ডে এমপি হয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি নারী জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হলো নতুন সেনাপ্রধানকে ‘ওভারনাইট বান্দরবান পাঠিয়ে দেব’ বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি জানতে ঢাকা মেডিকেলে জাসদ নেতৃবৃন্দ ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন

ভয়াবহ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ঝুঁকিতে যশোর

যশোর প্রতিনিধি :: ভারতীয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ঝুঁকিতে রয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা যশোর। পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শংকা রয়েছে। এ নিয়ে রীতিমত চিন্তিত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বর্তমানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একইসাথে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে একজন মৃত্যু বরণ করেছেন। এর থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে ও পরিস্কার মাস্ক ব্যবহারের কথা বলেছেন।

গত মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের নয়টি রাজ্য নাকাল হয়ে পড়ে। প্রতিদিনই মহারাষ্ট্র, উড়িষ্যা, মুম্বাইসহ এসব রাজ্যে লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দিনে মৃত্যু বরণ করছেন চার হাজারের বেশি মানুষ। মৃত মানুষের শেষকৃত্য নিয়েও ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ লাখ ১৫ হাজার ২ শত ৬৩ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩ জন যা প্রতিবেশি হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা।

ভারতে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েনি। ছড়িয়ে পড়েছে করোনা পরবর্তী প্রাণঘাতী ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস(কালো ছত্রাক)’ বা মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণ। এরপর এসেছে হোয়াইট ও ইয়োলো ফাঙ্গাস।

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর চলতি মাসে নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে এ কালো ছত্রাক। বিরল এ রোগে সংক্রমণে মৃত্যুর হার ৫০ ভাগের কাছাকাছি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভারতে করোনায় সুস্থ্য হয়ে ওঠা কয়েক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর শরীরে এ ছত্রাকের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, সাধারণত করোনা থেকে সেরে ওঠার ১২ থেকে ১৮ দিন পর এ ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। একে আক্রান্ত হয় মানুষের চোখ ও ফুঁসফুস। চোখে রক্ত জমাট বেঁধে অন্ধ হয়ে যাওয়া বা সংক্রমিত চোখ ফেলে না দিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। এছাড়া ফুঁসফুস সংক্রমিত হলে রক্ত জমাট বেঁধে রোগী মারা যায় বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ মে এক রোগী মারা যান। এরপর থেকে এ রোগ নিয়ে গোটা দেশে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয়। গোটা দেশের হাসপাতালগুলোতে মন্ত্রণালয় থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এ কারণে যশোর স্বাস্থ্য বিভাগও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ও এ রোগ থেকে সতর্ক থাকতে মানুষ ও কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা হিসাবে যশোর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিনই বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে অসংখ্য মানুষ যশোরে আসছেন। এখানে তাদের শরীরের তাপমাত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে ও রোগের বিষয়ে জানা হচ্ছে। এরপর তাদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ১৪ দিনের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। তারপরও এদের মধ্যে ৫ জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে। বৃহঃবার বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ৪৭ জন পাসপোর্ট যাত্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। যশোর জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে ৪৫ জনকে যশোরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং অসুস্থ্য ২ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এয়াড়া ভারত থেকে ট্রাকে মালামাল নিয়ে আসা চালক ও হেলপাররা বেনাপোলে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করছেন। এ কারণে গোটা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও যশোরকে গুরুত্বের সাথে দেখছে। মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছে কিছু নির্দেশনা।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফ আহমেদ বলেন, ভারতে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ সংক্রমণের বিষয়ে যশোর স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত রয়েছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে এখনও তারা কোন গাইড লাইন পাননি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান এ চিকিৎসা কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ঢাকার বাইরে দেশের অন্য কোথাও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সনাক্ত হয়নি। যদিও সীমান্তবর্তী জেলা হিসাবে যশোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাই এ রোগ থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত। তিনি আরও বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। এ রোগটি ছোঁয়াচে নয়। মানুষ থেকে মানুষে কোন শংকা নেই। সাধারণত যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষ ও দীর্ঘদিন যারা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবন করে আসছেন তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি