সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : দেশে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধ। অপরাধীদের বিচারহীনতা, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিন বা খালাস পেয়ে যাওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যাওয়ার কারণেই সমাজে এই ব্যাধি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অবিলম্বে শিশু রামিসা ও আছিয়াসহ সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকারদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের জনসম্মুখে ফাঁসি দিতে হবে—নাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকাল ৫টায় গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে সামাজিক সংগঠন ‘প্রজ্বলিত গোপালগঞ্জ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদে উত্তাল এই মানববন্ধনে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সর্বস্তরের জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো কর্মসূচিকে এক বিশাল গণ-প্রতিবাদে রূপান্তর করে।
‘প্রজ্বলিত গোপালগঞ্জ’-এর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক শেখ ফরিদ আহমেদ। সমাবেশে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আজ বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার সমাজে মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি এলাকায় ধর্ষক ও অপরাধীরা জামিন পেয়ে বা বেকসুর খালাস পেয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে অথবা চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে সমাজেই আমাদের আশেপাশে বহাল তবিয়তে বসবাস করছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।
বক্তারা সরকারের প্রতি তীব্র আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রচলিত আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে অবিলম্বে বিশেষ আইন সংস্কার করতে হবে। রামিসা ও আছিয়া হত্যাসহ সকল ধষর্ণ ও বলাৎকারের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে জনসম্মুখে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। অপরাধীরা যদি কৌশলে আইনের হাত থেকে ছাড় পেয়েও যায়, তবে এদেশের সচেতন জনগণ আর চুপ থাকবে না; তারা নিজেরাই গণ-বিচারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে। সমাজ থেকে এই পঙ্কিলতা দূর করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আন্দোলনকারীরা।