বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালীতে কাগজে-কলমে প্রকল্পএর নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড গোপালগঞ্জে প্রায় ২ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস ও নগদ টাকা জব্দ শিবালয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা এলাকাবাসীর ওপর হামলা চার লাখ টাকা আনতে গিয়ে নি’খোঁ’জ পাওনাদার কুলাউড়ার আইনুল ইসলাম বরিশালে উদ্বোধনের দুই মাসেই সড়কে গর্ত, উঠে গেছে পিচ-পাথর, অনিয়মের অভিযোগ মুন্সীগঞ্জ টিটিসি পরিদর্শনে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী কালিয়াকৈরে সিএনজি স্টেশনে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইন তীব্র গ্যাসের সংকট ৪৫ বছর ধরে মানুষের পাশে পল্লী চিকিৎসক ডাঃ বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য, প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ আর নেই

বরিশালে উদ্বোধনের দুই মাসেই সড়কে গর্ত, উঠে গেছে পিচ-পাথর, অনিয়মের অভিযোগ

আঃ রহিম সরদার, বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের উজিরপুরে কার্পেটিং সড়কের উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে পিচ-পাথর। কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, কোথাও দেবে গেছে সড়কের দুই ধার। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কের এমন পরিণতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক এত অল্প সময়েই নষ্ট হলে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে জবাবদিহি করবে কে?

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী কোনো যানবাহনের তেমন চলাচল করছেনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নতুন রাস্তা দুই মাসও টিকল না। এখনই পিচ উঠে যাচ্ছে। কাজ ভালো হলে এমন হওয়ার কথা নয়।”

সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে কাজ তদারকি করা হলে উদ্বোধনের এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। এ কারণে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তবে সুব্রত রায় বলেন, “বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে পানি জমে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাংশের মালিক মো. মহিউদ্দিনও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৃষ্টি যদি দায়ী হয়, তাহলে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই কেন নতুন সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাবে? প্রায় ৭৫ লাখ টাকার সড়কের ক্ষেত্রে নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি যথাযথ ছিল কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায়সারা মেরামত নয়, সড়কের নির্মাণমান পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: