বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
পূর্ব আফ্রিকার নবীন রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদানে সম্প্রতি একটি ভয়াবহ স্বর্ণখনি ধসের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন খনিশ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। খনি এলাকার দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে দুর্ঘটনার খবরটি দেরিতে প্রকাশ পায়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে খনিজ উত্তোলনের কাজ চলে আসছে, যা প্রায়শই এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে সৌভাগ্যবশত বেঁচে ফেরা দুই শ্রমিক বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে পুরো ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন হঠাৎ করে খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে, তখন বহু শ্রমিক মাটির নিচে কাজ করছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় বেশিরভাগ শ্রমিকের পক্ষে সেখান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ওই মুহূর্তের লোমহর্ষক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
প্রাথমিক মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ জনের কথা জানানো হলেও নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধসে পড়া টনকে টন মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো। পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অত্যন্ত মন্থর গতিতে চলছে। ফলে আটকেপাড়া মানুষের স্বজনেরা প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।
দক্ষিণ সুদানের এই অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণখনিগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থা। সামান্য জীবিকার টানে শত শত দরিদ্র মানুষ অত্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন। এ ধরনের বারবার ঘটে চলা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।