বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে এবং এর ফলে প্রতিদিনই বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে সারাদেশে নতুন করে সাতজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রাণহানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং স্বাস্থ্যখাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মৃত্যুর হার বাড়ার মূল কারণ হলো সময়মতো হাসপাতালে না আসা এবং চিকিৎসায় অবহেলা করা। অনেক রোগী জ্বরকে সাধারণ মনে করে ঘরে বসে চিকিৎসা নেন, যার ফলে পরবর্তীতে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। যখন তাদের হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায় এবং শারীরিক জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার ঘাটতি এবং অপর্যাপ্ত মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে এডিসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান উৎস হওয়ায় বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসালয় নয়, বরং মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করার মাধ্যমে রোগটির বিস্তার রোধ করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে মশারি ব্যবহার এবং দিনের বেলাতেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।