বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সম্প্রতি দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন থেকে চাইলেই দেশটিতে গিয়ে তাদের পরিবার বা নির্ভরশীলদের সঙ্গে আনতে পারবেন না। সেই সঙ্গে পড়াশোনা শেষে দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর প্রবণতা রোধ করতে শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন বহু শিক্ষার্থী মূল পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ছোট ও নিম্নমানের কোর্সে নিজেদের নাম লেখাতেন, যা অভিবাসন মহলে ‘ভिसा হপিং’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই প্রবণতা বন্ধ করতে নতুন নিয়মে কঠোর বিধিনিষেধ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থী আগের চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়া অর্থাৎ ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে সরাসরি অন্য কোনো নিম্নমানের বা সমমানের কোর্সে ভর্তি হয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না।
অস্ট্রেলিয়ান সরকার মনে করছে, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে ভুয়া বা নামেমাত্র শিক্ষার্থী ভর্তির প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এর ফলে শুধুমাত্র প্রকৃত ও উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশটিতে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন এবং অভিবাসনের ওপর বাড়তি চাপ কমবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মান বজায় রাখতে এবং ভিসার অপব্যবহার রোধ করতে এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিপ্রণেতারা।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতি বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে পড়তে ইচ্ছুক অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।