শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
প্রেম করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দীর্ঘ এক দশক পার হওয়ার পরও দাম্পত্য জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্কটি এখন কেবলই তিক্ততা আর বিভীষিকায় রূপ নিয়েছে। ভালোবাসার সেই ঘরোয়া পরিবেশ হারিয়ে গেছে অনেক আগেই, যার পরিবর্তে সেখানে এখন স্থান পেয়েছে নির্যাতনের নিষ্ঠুর চিত্র। এই দীর্ঘ দশ বছরের মাথায় এসে তাদের সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং বিচ্ছেদের ক্ষত দাউদাউ করে জ্বলছে।
ভুক্তভোগী রিক্তার অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামী ওবায়দুর ইসলাম এক লোমহর্ষক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। পারিবারিক কোনো এক বিরোধের জের ধরে ওবায়দুর জোরপূর্বক তার মুখ গরম ডালের পাত্রের মধ্যে চেপে ধরেন। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় রিক্তার মুখের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায় এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও সেই পোড়া দাগ তার মুখ থেকে চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।
শরীরের এই স্থায়ী পোড়া দাগ কেবল শারীরিক কষ্টই বাড়ায়নি, বরং তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্বকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে উভয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে এবং এক ছাদের নিচে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বামীর এমন অমানবিক আচরণ ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে রিক্তার জীবনে নেমে আসে চরম অসহায়ত্ব। দিন যত গড়ায়, তাদের সম্পর্কের ফাটল ততটাই চওড়া হতে থাকে এবং একসময় এই দম্পতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পথে পা বাড়ায়।
পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হতে পারে, তা কখনো কল্পনাও করেননি ওই নারী। দীর্ঘ দশ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানতে গিয়ে এখন তাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সারাজীবনের মতো পোড়া মুখের দুর্ভাগ্যের ক্ষত। সমাজের অন্যান্য ভুক্তভোগী নারীর মতোই তিনি এখন ন্যায়বিচার ও নিজের ওপর চালানো এই নৃশংসতার সঠিক প্রতিকার পাওয়ার আকুল প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।