রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সম্প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার একপর্যায়ে এসে সরকারের এমন পতনের নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা নিয়ে নানা মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আগের শাসনামল এবং পরবর্তী সময়ের শাসনপদ্ধতির মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা কিছু সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, অতীতের তুলনায় পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ চরিত্র ও ক্ষমতার গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল।
বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের শাসনকাল তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ও জনবান্ধব ছিল। সে সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে সাধারণ মানুষের আবেগ ও শ্রদ্ধাবোধ তার পক্ষে কাজ করেছিল। ফলে ওই পাঁচ বছরে সরকারের ভাবমূর্তি এতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি এবং প্রশাসনের ওপরও কঠোর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্বের সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ সুবিধাভোগী চক্র দলের ভেতরে এবং চারপাশে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই পতনের পেছনে মূলত কয়েকটি পক্ষকে প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যার মধ্যে অতিউৎসাহী ও তোষামোদকারী সাংবাদিক সমাজের একটি অংশের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি, দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়া তথাকথিত হাইব্রিড নেতাকর্মী এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ীরাও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, এই চাটুকার গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সবসময় প্রকৃত চিত্র আড়াল করে রাখত এবং অতিমাত্রায় তোষামোদির মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল।
ফলস্বরূপ, মাঠের প্রকৃত জনমত এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি সরকারের শীর্ষমহল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এই কৃত্রিম প্রশ্রয়ের পরিবেশের কারণে প্রশাসনের ভেতর জবাবদিহিতা হারিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সময়মতো এই সুবিধাভোগী ও হাইব্রিড চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং সঠিক তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা গেলে হয়তো রাজনৈতিক এই পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।