রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিশু অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার এবং এর সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবিতে তারা তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার ব্যস্ততম কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন শত শত শিক্ষার্থী। এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুইপাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার কারণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে নিহত অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা একটি শোকমিছিল বের করেন এবং মিছিলটি নিয়ে সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে একই দিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পারিবারিক কবরস্থানে নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়। এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল ঘটনার কিছুদিন আগে, যখন কোটবাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার পরবর্তী দিন দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপঝাড় থেকে পুলিশ শিশু অপ্রতিমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, মায়ের সঙ্গে থাকা মূল্যবান আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে দুর্বৃত্তরা। এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইতোমধ্যে তুহিন (১৯) নামের এক তরুণসহ আনাস নামের আরও একজনকে আটক করেছে। বর্তমানে আটককৃতদের পুলিশি হেফাজতে রেখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও অগ্রগতি জানাতে সেদিন দুপুরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছিল।
এদিকে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ ও অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সজাগ দৃষ্টি রাখে। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রাখায় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান। মেধাবী এক শিশুর এমন নৃশংস পরিণতিতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও এর আশেপাশের অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সর্বস্তরের মানুষ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।