বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চভাড়াও

দেশের বাজারে সকল ধরণের জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই পরিবহন খাতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি খরচের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রথমে সড়ক পরিবহন বা বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর ধারাবাহিকতায় এবার নৌপথের যোগাযোগ মাধ্যম তথা লঞ্চের ভাড়াও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। ফলে যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধাক্কা সামাল দিতে নৌপরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, বর্তমান তেলের দামে লঞ্চ পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে এবং পুরনো ভাড়ায় চলাচল করলে মালিকদের বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এই বাস্তবতায় উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভাড়ার নতুন হার কার্যকর করা হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির জেরে পরিবহন খাতের এই ধারাবাহিক ভাড়া বৃদ্ধিতে দেশের সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যাতায়াত খরচ এভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, বাসের পর লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো মনে করছে, জ্বালানি তেলের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহন খাতের ব্যয় কমানোর দীর্ঘমেয়াদী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন মালিকদের উচিত জনস্বার্থ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা এবং যাতায়াত খরচ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখার উপায় খুঁজে বের করা। অন্যথায় পরিবহন খাতের এই অস্থিরতা অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতেও বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: