শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। এর জবাবে ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান।
এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় সংকট নিরসনের নানা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তাদের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে কিছুটা নমনীয়তার আভাস মিলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নৌপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে রাজি রয়েছে ইরান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সামরিক সংঘাতের মাত্রা কমাতে এই জলপথ সচল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে কীভাবে সাড়া দেবে এবং তাদের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সংকট সমাধানে ইরানি প্রস্তাবের ইতিবাচক মূল্যায়ন করে, তবে চলমান উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামতে পারে। তবে এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।