শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
দৈনন্দিন ব্যস্ততার যুগে ত্বকের যত্নে মানুষ নানা ধরনের রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু বহুমূল্য এসব প্রসাধনীর পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় না করে প্রাকৃতিক উপায়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি সৌন্দর্যচর্চায় এক অদ্ভুত উপাদানের কথা সামনে এসেছে, যা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। বেঁচে যাওয়া বাসি রুটি দিয়ে এখন ঘরে বসেই খুব সহজে ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান করা যায়।
সাধারণত সকালের তৈরি রুটি বেঁচে গেলে অনেকেই তা ফেলে দেন অথবা পশুকে খেতে দেন। অথচ এই বাসি রুটিতেই এমন কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন আসে যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। দীর্ঘ সময় রাখা রুটিতে মৃদু গাঁজনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ল্যাকটিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
গমের তৈরি রুটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, জিংক, সিলিকা এবং ভিটামিন ই থাকে। বাসি হওয়ার পর এই পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকে আরও সহজে শোষিত হতে পারে এবং কোষ গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া রুটি কিছুটা শক্ত হয়ে যাওয়ায় এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করার কাজ করে থাকে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী এই বাসি রুটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কার্যকরী ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধের সঙ্গে বাসি রুটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে, যা ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করে তোলে। অন্যদিকে, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মধু ও লেবুর রসের সঙ্গে রুটির গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করতে টক দই ও হলুদের সঙ্গে রুটি মিশিয়ে ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া নাকের ব্ল্যাকহেডস দূর করতে বাসি রুটির গুঁড়া এবং চালের গুঁড়ার মিশ্রণ স্ক্রাব হিসেবে চমৎকার কাজ করে। নিয়মিত এসব ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ ও সুন্দর ত্বক পাওয়া সম্ভব।