মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্গঠন কাজ শুরু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে শ্রীলঙ্কা। সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে কলম্বো এই অবস্থান তুলে ধরে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ গাজা ও সংলগ্ন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ সকল অবিচ্ছেদ্য অধিকারের পক্ষে শ্রীলঙ্কা সবসময় অটল রয়েছে।
ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধানের ওপর জোর দিয়ে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন যে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হলেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের অবসান ঘটা সম্ভব। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যে প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে তা মেনে চলার তাগিদ দেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সংঘাত যেভাবে বিস্তার লাভ করছে তাতে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বিজিতা হেরাথ জানান যে পারস্পরিক সংলাপই একমাত্র সংকট উত্তরণের পথ।
জাতিসংঘের এই বৈশ্বিক মঞ্চে ফিলিস্তিন সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিও অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন নিঃসরণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ক্ষতির মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই। বিশেষ করে নেপাল ও চীনে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জলবায়ুজনিত দুর্যোগের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এই শীর্ষ কূটনীতিক।
শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করে কলম্বো। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কা।