মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন পেজের একটি শাড়ি প্রতারণা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তানজিন তিশা। সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের জামিন বর্ধিতের আবেদন জানান এই তারকা। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এই মামলার কারণে নিজের চরম ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন শপ থেকে প্রায় ঊনত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে তা পরিধান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কথা ছিল এই অভিনেত্রীর। কিন্তু শাড়িটি নেওয়ার পর অনলাইন পেজটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ আনা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বর মাসে পেজের প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মূলত উপহার হিসেবে পাওয়া একটি পোশাককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই আইনি জটিলতা পরবর্তীতে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তানজিন তিশা জানান, মূলত পরিচিত এক বড় বোনের মাধ্যমে উপহার হিসেবে শাড়িটি তার হাতে আসে। সেই সময় তিনি তার নতুন চলচ্চিত্র ‘সোলজার’-এর শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছিলেন। পেজটির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছবি পোস্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও ব্যস্ততার কারণে একটু দেরি হয় এবং এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রতারণার সংবাদ প্রকাশিত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন এবং প্রয়োজনে বারবার আদালতেও হাজির হবেন।
পুরো ঘটনাটির পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা ছাড়াই তার মতো একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে এমন মানহানিকর অভিযোগ আনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে কে বা কারা এর নেপথ্যে রয়েছে তা নিয়ে তিনি বেশি দূর ভাবতে চান না কারণ তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল। পরিশেষে দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক ন্যায়বিচার পাওয়ার জোর দাবি জানান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।