শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ভারতীয় নাগরিক রবিউল এবার অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে মা তো নেই, এখন আপনাদেরই উচিত আমাকে দেখে রাখা, ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোনালদোকে ছাড়াই আরও একটা দারুণ জয় পর্তুগালের প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৭০৭টি স্কুলে ৬০৫ শিক্ষকের পদ শূন্য, পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা ইসলামী আন্দোলন ও সাহিত্যে মাওলানা আবদুর রহীমের অবদান স্মরণীয় নারীর প্রতি সহানুভূতি: ইসলাম কীভাবে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে এআইইউবি যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করছেন বেশির ভাগ নাগরিক ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় তিন দিনে তিন কিশোরীর মৃত্যু তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে জানে মাত্র ১০.৫% মানুষ

ময়মনসিংহে কাফনের কাপড় বিছিয়ে ২২ প্রার্থীর অনশন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র হাতে না পেয়ে ময়মনসিংহে অভিনব ও কঠোর কর্মসূচি শুরু করেছেন একদল চাকরিপ্রত্যাশী। চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে কাফনের কাপড় বিছিয়ে অবস্থান নিয়ে তারা এই তীব্র প্রতিবাদ জানান। অনশনরত প্রার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে সফলতা অর্জনের পরও নিয়োগ ঝুলে থাকায় তাদের জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আন্দোলনরত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের অন্যান্য জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলেও ময়মনসিংহের এই ২২ জনের ভাগ্যেই কেবল বঞ্চনা জুটেছে। কী কারণে তাদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আজ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো সদুত্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা চরম এই অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলায় সব মিলিয়ে ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় তাদের প্রক্রিয়া বাতিল হয়। অবশিষ্ট ২৪১ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ২১৯ জনকে বৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কেবল এই ২২ জনের নিয়োগই রহস্যজনক কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক রিপোর্টের ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। এই জটিল বিষয়ে স্থানীয়, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তারই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক মহyর সিদ্ধান্তের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বর্তমান স্থগিতাদেশই বহাল থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের সংবেদনশীল প্রতিবেদন অত্যন্ত গোপনীয় প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাই চাকরিপ্রত্যাশীদের সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য স্থানীয় কার্যালয়ের জানার বা প্রকাশ করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এই পুরো বিষয়টি একমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই অবগত আছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন কেবল তাদের দেওয়া নির্দেশাবলী যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে মাত্র। ফলে কাফনের কাপড় বিছানো আন্দোলনকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো গভীর সংশয় ও উদ্বেগ কাটেনি।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: