শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিকন আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন’ প্রতিযোগিতার এবারের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ধারণ করা বৈজ্ঞানিক ছবি ও ভিডিও নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী একটি ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ এবং তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে পুনরায় মূল্যায়ন শুরু করেছে।
প্রতিযোগিতায় এবারের আসরে বিজয়ী হয়েছেন চীনের সম্মানজনক সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নিং শু। তাঁর জমা দেওয়া একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওতে বিরল রোগে আক্রান্ত এক শিশুর শ্বাসনালিতে থাকা অত্যন্ত ক্ষুদ্র চুলের মতো গঠন বা সিলিয়ার নড়াচড়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। সাধারণত মাইক্রোস্কোপে ধারণ করা ছবিতে ভিন্ন রং ব্যবহার করে তা স্পষ্ট করা বৈজ্ঞানিক মহলে প্রচলিত এবং এই প্রতিযোগিতায়ও তা অনুমোদিত। তবে ভিডিওটির কিছু নির্দিষ্ট গঠন এবং নড়াচড়ার ধরণ দেখে বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিজয়ী ভিডিওটি প্রকাশের পর ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড ফেলপসসহ একাধিক গবেষক এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটির কিছু অংশ আকস্মিক অদৃশ্য হয়ে যাওয়া এবং সিলিয়াগুলোর অস্বাভাবিক উপায়ে আবির্ভূত হওয়া এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া প্রতিযোগিতার দুই সাবেক বিচারকও পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভিডিও তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন ব্যবহার প্রতিযোগিতার নিজস্ব মৌলিক নিয়ম ও নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিজয়ী গবেষক ড. নিং শু। নিকন কর্দূক আয়োজিত এক অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, মূলত ধূসর রঙের প্রাথমিক পুনর্গঠিত চিত্রে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আলাদা করে স্পষ্ট করার স্বার্থে সামান্য এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর স্পষ্ট দাবি, মূল পরীক্ষামূলক ভিডিও ক্লিপ, সিলিয়া কিংবা জীবন্ত সিলিয়ার প্রাকৃতিক নড়াচড়া তৈরিতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে আয়োজক কমিটিকে সব ধরনের কারিগরি নথি দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
অন্যদিকে নিকন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই প্রতিযোগিতার সম্মান শুধু তিন হাজার ডলারের আর্থিক পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিজ্ঞান ও শিল্পের এক অনন্য মেলবন্ধন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মভঙ্গ হয়ে থাকে, তবে তা অন্য প্রতিযোগীদের প্রতি চরম অন্যায় হবে। তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিকন খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।