বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিতে নীতির টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে ফ্যাসিস্টদের হেনস্তা ২,৪৮০ পদে নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু কবে চীনে সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন, কত দিন চলবে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ? প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে পরীক্ষা কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে আমেরিকা পৌঁছেছিল যে ভাইকিংরা সংস্কারেও দুর্ভোগ কাটছে না ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে

মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পজগৎ: পাপেট বাড়ির ‘বাসিন্দাদের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পাপেট ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে গড়ে ওঠা শিল্পজগৎ এবং পাপেটগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চিত্রকলায় পড়াশোনা করলেও শিল্পের প্রায় প্রতিটি শাখায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন এই গুণী শিল্পী। বিশেষ করে পাপেটশিল্পের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রতিটি ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই শিল্প মাধ্যমটিকে নিজের সাধনা হিসেবে লালন করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের সহশিল্পীরা তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা এবং বর্ণিল পাপেট সংগ্রহশালাটি সংরক্ষণ করা নিয়ে গভীর চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

শিল্পীর বাড়ির নিচতলায় রয়েছে তাঁর সুপরিসর স্টুডিও এবং ওপরের তলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাপেট বাড়িটি যেন এক জাদুকরি ভুবন। বিটিভির জনপ্রিয় পাপেট অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’-র শুটিং থেকে শুরু করে পুতুল তৈরির যাবতীয় কারিগরি কর্মযজ্ঞ চলত এই নিভৃত ঘরেই। জাপিত জীবনের দীর্ঘ সময়ে মুস্তফা মনোয়ার নিজেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাঠের গুঁড়ি, কাপড় ও ধাতব যন্ত্রপাতির সাহায্যে প্রতিটি পাপেট চরিত্র তৈরি করতেন। একটিমাত্র পাপেট চরিত্র তৈরি করতে প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় লাগত এবং পুতুলগুলোতে প্রাণবন্ত ভাব ফুটিয়ে তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হতো পুরো দলকে।

এই পাপেট বাড়িতে এখনো সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় এক শ জীবন্ত ও বর্ণিল পাপেট চরিত্র, যার মধ্যে রয়েছে পারুল, বাউল ভাই ও ষাঁড়ের মতো জনপ্রিয় সব সৃষ্টি। ঘরের দেওয়ালে ও টেবিলে ছড়িয়ে থাকা ছেনি, তুলি, রঙের কৌটা কিংবা সেলাই কাটার সরঞ্জাম শিল্পীর কাজের প্রতি তাঁর আজীবন নিবেদনের সাক্ষ্য বহন করছে। তবে এখানেই পড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে ‘বীর পুরুষ’ এবং বিখ্যাত ছোটগল্প ‘সুভা’ পাপেট চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার কিছু অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি ও পরিকল্পনা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিল্পী এসব কাজ পুরোপুরি শেষ করে যেতে পারেননি, যা এখন তাঁর সহশিল্পীদের সহযোগিতায় সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।

শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর গড়া স্টুডিও এবং অডিও রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রপাতিগুলো সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী অনুকূল চন্দ্র দাস ও অন্যান্য কর্মীরা। তবে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতার অভাব, যা ভবিষ্যতে এই সৃষ্টিগুলোকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ। শিল্পীর পরিবার এখনই তাঁর সমগ্র কাজ নিয়ে কোনো বড় জাদুঘর গড়ার কথা না ভাবলেও, সংগ্রহ থেকে কিছু পাপেট সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর অমূল্য সৃষ্টি ও পাপেটজগতের সঠিক সংরক্ষণ ও প্রসার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: