রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
মানিকগঞ্জ থেকে আকাশ চৌধুরী : মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলার বেউথা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতে থাকেন দর্শনার্থীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছায়। নৌকাবাইচকে ঘিরে পুরো বেউথা এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসব প্রাঙ্গণে।
দুপুরে নদীর বুকে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। বড় ও ছোট মিলিয়ে প্রায় ৩০টি নৌকা এতে অংশ নেয়। ঢাক-ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টানে নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে ছুটে চলে। নৌকার গতি ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় নদীর দুই পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিযোগী দলগুলো নিজেদের নৌকা নিয়ে অংশ নেয়। মাঝি ও নৌকার সদস্যদের উৎসাহ দিতে দর্শনার্থীরা হাততালি, হর্ষধ্বনি ও স্লোগানে নদীর পাড় মুখর করে তোলেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করতে আসেন। কেউ কেউ নদীর পাড়ের উঁচু ভবন, সেতু ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার। বিজয়ীদের জন্য মোট চারটি মোটরসাইকেল ও ১৬টি ফ্রিজ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। এতে প্রতিযোগী দলগুলোর মধ্যেও বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে কালীগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে বসে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট। শিশু-কিশোরদের জন্য খেলনা ও বিনোদনের নানা আয়োজনের পাশাপাশি খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় পুরো বেউথা এলাকা উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে।
নৌকাবাইচের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিজ আফরোজা খানম রিতা। তিনি নৌকাবাইচ উপভোগ করেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। নদীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। দর্শনার্থীদের নিরাপদে নৌকাবাইচ উপভোগের সুযোগ করে দিতে নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
আয়োজকদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং দর্শনার্থীদের সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা মনে করেন, এমন আয়োজনের মাধ্যমে কালীগঙ্গা নদীর ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।