রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলাবে: অর্থমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর পুত্রবধূকে ‘চাকরি না দেওয়ায়’ বিদ্যালয়ে তালা, মাঠে লাগালেন কলাগাছ কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, স্থানীয়দের হাতে আটক পুলিশ কর্মকর্তা ছবি ও ভিডিওতে এআই মডেলের প্রভাব, যেভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে তরুণদের মনস্তত্ত্ব স্বৈরাচার উৎখাতে আমরা যতটা ভালো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় ততটাই খারাপ: মাহফুজ আনাম ঘোস্টিংয়ের পর অরবিটিং মানেই কি ফিরে আসা? সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে প্রাক্তন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে ৭০ মিটার গভীর থেকে এক শিশুকে তুলে এনে আফগানিস্তানে নায়ক ১১ বছরের হজরত ওমর

পুত্রবধূকে ‘চাকরি না দেওয়ায়’ বিদ্যালয়ে তালা, মাঠে লাগালেন কলাগাছ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক সাবেক দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া এবং খেলার মাঠে কলাগাছ রোপণের অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল নামক ওই প্রতিষ্ঠানে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষকদের কার্যালয়ে অতিরিক্ত তালা ঝুলিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা এমন আকস্মিক কর্মকাণ্ডে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন এবং প্রাত্যহিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করার সময় ভিন্ন একটি নাম ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী এর নামকরণ করা হয় ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি লাভ করে এবং বর্তমানে সেখানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। মূলত এই নামকরণ এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে নানামুখী জটিলতার সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলীর দাবি, প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সময় তাঁর পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যা পরে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে জানান। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তির পুত্রবধূকে ইতিপূর্বে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।

প্রধান শিক্ষক আরও জানান যে এই বিরোধের জেরে ইতিপূর্বে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তা সত্ত্বেও মামলার নিষ্পত্তি না করেই এমন হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিশ্চিত করেছেন যে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে এবং সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ড নতুন কমিটির অনুমোদনও প্রদান করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় চত্বরে বেড়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষও বিশুদ্ধ পানির নলকূপ ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে নেপথ্যে যতই বিরোধ থাকুক না কেন, চালু থাকা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বা শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। খুব শীঘ্রই কর্মস্থলে ফিরে তিনি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: