মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নানাবাড়িতে এসে ফুল তুলতে গিয়ে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআইয়ের বক্তব্য ভাইরাল গাইবান্ধার সেই ‘এক টাকার মাস্টার’ লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ রাত অবশেষে নিয়োগ পেলেন ভিটেবাড়িহীন মিশন আচার্য উপাচার্যকে ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর আলোচনায় আন্দোলনকারী সাংবাদিকেরা বাংলাদেশ-আমিরাত প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র মাথায় স্কার্ফ পরে ছবি দেওয়ায় তুর্কি শিক্ষার্থীর ফ্রান্সের ভিসা প্রত্যাখ্যান ঢাকায় ‘তেরে বিন’ তারকা ওয়াহাজ, সঙ্গে নুসরাত ফারিয়া পরিবারসহ ২৭ ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে যুক্তরাজ্য

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শিক্ষিকাকে পানি ছিটিয়ে উত্ত্যক্ত, যুবককে গণপিটুনি

শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে কবির শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

রোববার উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার কবির শেখ বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কবির শেখ প্রায়ই ওই শিক্ষককে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্তের পরিবারের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি কোনো কার্যকর সমাধান।

ঘটনার দিন সকালে ওই শিক্ষিকা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে কবির শেখ তার পথরোধ করে। এ সময় ওই শিক্ষিকার আত্মীয়স্বজনরা এগিয়ে এসে কবিরকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে কবিরের পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

উত্ত্যক্তের শিকার শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কবির প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত ও পথরোধ করতো। এমনকি মাঝে মাঝে শরীরে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতো। তার ভয়ে আমি অনেক সময় স্কুল থেকে ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছি। সামাজিকভাবে এলাকাবাসী, উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।” তবে মারধরের ঘটনার বিষয়ে তিনি জানান, কারা তাকে মারধর করেছে তা তার জানা নেই।

অভিযুক্ত কবিরের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন, “আমার চাচার কিছুটা মানসিক সমস্যা আছে। তিনি আগে অটো চালাতেন এবং সেই সূত্রে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকেই তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে যান। তবে তাকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ কবির ও তার পরিবারকে ডেকে আনা হয়েছিল। সে সময় তারা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকুমার কুণ্ডু জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: