সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে একমাত্র দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ শুরু করেও বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ দল। দুবাইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক করেছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৯০ রান তুলে ফেলেছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু সেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি সফরকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করলেও ইনিংসের শেষ ভাগে ধারাবাহিক উইকেট পতনের কারণে অলআউট হওয়ার আগে দলের রান থামে ২৩৪-এ।
দলের পক্ষে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন ওপেনার সৌম্য সরকার। তিনি ৯২ বলের মুখোমুখি হয়ে ছয়টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেন। তার উদ্বোধনী সঙ্গী সাদমান ইসলামও যথেষ্ট দায়িত্বশীল ব্যাট করে ৯৫ বলে করেন ৪৬ রান। এছাড়া মিডল অর্ডারে নাঈম হাসান ৩৬ রান এবং মুমিনুল হক ৩৩ রানের অবদান রাখেন। তবে এই কয়েকজন ব্যাটসম্যান ছাড়া ইনিংসের বাকি অংশ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, যার কারণে দল দুই শ রান পার করলেও আড়াই শ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।
দলের পরের সারির ব্যাটাররা উইকেটে এসে কেউই বলার মতো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। মুশফিকুর রহিম, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেনদের কেউই ব্যক্তিগত দুই অঙ্কের রান ছুঁতে সফল হননি। স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়ে। আমিরাত একাদশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে একা হাতেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন বোলার মাহবুবুল, যিনি একাই শিকার করেন সাতটি উইকেট। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদেই টাইগাররা বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে।
প্রস্তুতি ম্যাচে ২৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দলীয় ২৪ রানের মাথায় স্বাগতিক ওপেনার লুকমানকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার ইবাদত হোসেন। এরপর অবশ্য আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি আমিরাতের ব্যাটাররা। দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা ৮ ওভারে ৩৪ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করে। দিন শেষে ভরত ১৬ রান এবং আফতাব ৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশ দলের হয়ে ইবাদত ও খালেদ বোলিং আক্রমণ সামলান।