সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বান্দরবানের থানচিতে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ২ নাশতার সময় গলায় ডিম আটকে প্রাণ গেল তরুণীর হাসিমুখে ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন শিক্ষক, কিছুক্ষণ পর ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল, তড়িঘড়ি গর্ত ভরাট, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯০২ প্রাচীন দাঁত দেখে গবেষকেরা জানালেন, মানুষ সুপারি খেত ২৫ হাজার বছর আগে থেকেই ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১২ দুদকের মামলায় ছেলেসহ গ্রেপ্তার দেখানো হলো শাজাহান খানকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেইল, তদন্তে ডিবি আলোয় মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবনে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

কিশোরগঞ্জে ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ হাজার, ডেঙ্গুতে ১,৮০০; মৃত্যু ৩

কিশোরগঞ্জ জেলায় সম্প্রতি ডেঙ্গু, ডায়েরিয়া ও হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন এবং বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ২৪ হাজার ৯৮৩ জন ডায়েরিয়া রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন, যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৩ জন। পাশাপাশি, ১ হাজার ৮১১ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়া, নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম এবং সাপে কাটার ঘটনার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে জেলার সরকারি ও বেসরকারি ১৬টি হাসপাতালে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু, হাম ও ডায়েরিয়া রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বেশ হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভৈরব ও বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীর দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সচেতনতার অভাবে অনেক রোগীই হাসপাতালে মশারি ব্যবহার করছেন না কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলছেন না। অন্যদিকে, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের স্বজনেরা হাসপাতালের কিছু অব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় নার্স বা চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন।

রোগীদের এই ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। তাঁর মতে, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হচ্ছে না। তবে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে তিনি জনসাধারণের প্রতি নিজেদের বাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, ফোটানো পানি পান করা এবং রাতদিন সব সময় মশারি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এই সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধ করা কঠিন হবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: