সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
মাত্র দুই বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছিলেন সেঁজুতি ইসলাম। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে কর্মরত বাবা শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে। এই সামান্য অনুদান দিয়ে তিন সদস্যের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে ফুফুর বাসায় আশ্রয় নেন তাঁর মা ফাতেমা খাতুন। চরম এই অভাব ও প্রতিকূলতার মধ্যেও মা কোনোভাবেই মেয়েদের পড়াশোনা থামতে দেননি।
পরিবারের এই কষ্টের জীবনযাত্রার কথা সম্প্রতি নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন ফাতেমা খাতুন। প্রথম আলো ও শিখোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেয়ে সেঁজুতির সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে ফাতেমা খাতুন নিজে মারাত্মক অসুস্থ এবং তাঁকে প্রতি মাসে নিয়মিত দুই ব্যাগ করে রক্ত নিতে হয়। এর মধ্যে আগামী বছর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আর্থিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাটোরের ওই অনুষ্ঠানে সেঁজুতির মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যাদের প্রত্যেকের পেছনে রয়েছে সংগ্রামের ভিন্ন এক গল্প। রাজমিস্ত্র্রি বাবার দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ার পর রিকশা চালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ইভা খাতুনের মতো শিক্ষার্থীরাও সেখানে নিজেদের স্বপ্নের কথা জানায়।
সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠা এই আয়োজনে নাটোর বন্ধুসভার সভাপতি জমিন আহম্মেদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নাটোর প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিক নেওয়াজ তালুকদার, নাটোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু হাসনাত মো. রফিকুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনেরা। বক্তারা শিক্ষার্থীদের কেবল সনদ অর্জন নয়, বরং নিজেদের প্রকৃত যোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন।